ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:০৩, ১০ আগস্ট ২০২০
আপডেট: ১৮:৩২, ১০ আগস্ট ২০২০

কোতোয়ালি থানার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

রাজধানীর কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে থানা হাজতে জিম্মি করে সাড়ে ৩ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে আদালতে এ মামলাটি করেছেন সোহেল মিয়া নামের এক কাপর ব্যবসায়ী।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক পবিত্র সরকার (৪২), খালিদ শেখ (৪৫), সহকারী উপ-পরিদর্শক শাহিনুর রহমান (৪২), কনস্টেবল মো. মিজান (৫২) ও সোর্স মোতালেব।

আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পিবিআই এর একজন এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে তদন্তভার দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন ২ আগস্ট কেরানীগঞ্জ থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে কোতোয়ালী থানার গুদারাঘাটে নেমে আম্বিয়া টাওয়ার এর সামনে এলেই মামলার আসামি এসআই পবিত্র সরকার, কনস্টেবল মিজান ও সোর্স মোতালেব গতিরোধ করে দেহ তল্লাশি করে। অবৈধ কিছু না পেয়ে পকেটে থাকা দুই হাজার ৯শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। টাকা ফেরত চাইতে গেলেই বাধে বিপত্তি। পরে ব্যবসায়ী সোহেল মিয়াকে মারপিট করে এবং ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে বলে। ফের টাকা ফেরত দিতে বললে এসআই খালেদসহ অন্যরা তার নামে থানায় জেএমবি মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পথচারীরা সমবেত হতে থাকলে ওসি মিজানুর রহমান নিজের পকেট থেকে ২১৪ পিস ইয়াবা বের করে সোহেলের পকেটে দিয়ে ছবি তোলেন এবং পথচারীদের বলে তার থেকে পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহারে আরো জানা যায়, সোহেল মিয়াকে জেএমবি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে টানা হেঁচড়া করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে সোহেল মিয়াকে তার স্বজনদের থানায় আসতে বলেন এসআই খালেদ। সোহেলের স্ত্রী ও বোন থানায় এলে ওসি মিজানুর রহমানসহ অন্যরা বলেন- তাকে ছাড়াতে হলে পাঁচ লাখ টাকা লাগবে। অন্যথায় তাকে কয়েকটা মামলায় ফাঁসানো হবে। 

এসবে কোনো পথ খুঁজে না পেয়ে সোহেলকে বাঁচাতে ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই লাখ টাকা দেয়। পরের দিন ৩ আগস্ট পুলিশের কথা মতো ধার-দেনা করে বাকি দেড় লাখ টাকা এসআই পবিত্র সরকার ও এসআই নম্বর আসামিকে বুঝিয়ে দেন। টাকা পেয়ে ঘটনাকে আড়াল করে ১০০ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরের দিন আদালতে পাঠান। ঘটনার সব কিছু ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়