ডেস্ক নিউজ
আপডেট: ২২:৩৭, ১৯ আগস্ট ২০২০
বাংলাদেশিদের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসার জরিমানা কমাল ভারত
মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য জরিমানা কমিয়েছে ভারত। আগে দেশটিতে অবস্থানকালে বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে অধিক পরিমাণ জরিমানা দিতে হত। এই জরিমানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য ছিল। তবে বর্তমান নিয়মে তা অনেক কমানো হয়েছে।
আগের নিয়মে, কোনো বাংলাদেশি মুসলমানের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতে থাকলে, ওভার স্টে বাবদ ব্যক্তিটিকে দিতে হত মোটা অংকের জরিমানা। তবে মুসলিম সম্প্রদায় বাদে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান অথবা জৈন ধর্মের হলে একই দোষে তাকে জরিমানা গুনতে হত অনেক কম।
তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, শিক্ষার্থী বা অন্য কোনো কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভারতে অবস্থানের নির্দিষ্ট কারণ জানালে বিষয়টা ভিন্ন। সেক্ষেত্রে ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও) জানাতে হবে। পরে সংশ্লিস্ট দফতর নির্দিষ্ট বিষয়ে সঠিক কারণ বুঝলে সেই অনুপাতে মেয়াদ বাড়ায়।
তবে এই নিয়ম শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। একই নিয়ম বর্তাতো আফগানিস্তান ও পাকিস্তানিদের জন্যও।
গত বছর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নাগরিকেরা বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে আসার পর যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নিজ দেশে ফিরে না যান, তবে তাদের এই অবৈধ অবস্থানের জন্য বিভিন্ন হারে জরিমানা দিয়ে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, এই ৩ দেশের সংখ্যাগুরু (মুসলিম) নাগরিকেরা যদি ভিসার মেয়াদ শেষের পরও ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তবে তাদের বেআইনি অবস্থানের ১ থেকে ৯০ দিনের জন্য দিতে হবে ২১ হাজার রুপি জরিমানা, ৯১ দিন থেকে ২ বছর পর্যন্ত অবস্থান করলে দিতে হবে ২৮ হাজার রুপি এবং ২ বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করলে দিতে হবে ৩৫ হাজার রুপি।
এই জরিমানার অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর ওই নাগরিকেরা বৈধ অনুমতি নিয়ে ভারত থেকে নিজ দেশে ফিরতে পারবেন।
এই আদেশ জারির পর এ নিয়ে ভারতে সমালোচনা হয়। দেশটির অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতে অবস্থানকারী ওই তিন দেশের নাগরিকদের জরিমানার অর্থ প্রদানে কীভাবে এই অসামঞ্জস্য হয়? কেন ধর্মীয় বিভাজন করা হলো?
নির্দেশনার পর ৬ মার্চ কলকাতার দ্য বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সেক্রেটারি (মার্কেটিং) উৎপল রায় একটি চিঠি লেখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে এভাবে ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণদের ধর্মীয় বৈষম্যমূলক জরিমানা ধার্য হতে পারে না। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আবেদন করেন।
সম্প্রতি এই আদেশ বাতিল করে ওই তিন দেশের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণকারীদের জরিমানার হার সব নাগরিকের জন্য সমান করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সবার জন্য ১ থেকে ১৫ দিনের জন্য ৫০০ রুপি, ১৬ থেকে ৯০ দিনের জন্য ৫ হাজার রুপি, ৯১ থেকে ২ বছর ১০ হাজার রুপি ও ২ বছরের বেশি যারা, তাদের ২০ হাজার রুপি জরিমানা দিতে হবে।
এ বিষয়ে ‘দি বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র বিপণন সচিব উৎপল রায় বলেন, বাংলাদেশ শুধু আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বাংলাদেশ আমাদের ভাতৃপ্রতীম ও বন্ধুরাষ্ট্র। বছরজুড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী বর্ষপূর্তি চলছে। আমি জন্মসূত্রে ভারতীয় হলেও আমার বাবা চট্টগ্রাম ও মায়ের জন্মস্থান ছিল চাঁদপুরে। ফলে আমার গায়ে বাংলাদেশের রক্ত আছে। বিষয়টি আমার নজরে পড়ে।
কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, কলকাতার বৈদেশিক আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর (এফআরআরও) অফিস থেকে তারা কিছুদিন আগে একটি চিঠি পেয়েছিলেন। সেখানে নতুন জরিমানার হার পুনর্নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























