ঢাকা, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৪ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৭, ২৭ নভেম্বর ২০২০

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর জন্মদিন

মুনীর চৌধুরী

মুনীর চৌধুরী

মুনীর চৌধুরী- একাধারে শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক ও ভাষাবিজ্ঞানী। আজ (২৭ নভেম্বর) এই শহীদ বুদ্ধিজীবীর জন্মদিন। ১৯২৫ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম। মুনীর চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।

মুনীর চৌধুরীর পিতা খান বাহাদুর আবদুল হালিম চৌধুরী ছিলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। তার চৌদ্দ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় হলেন মুনীর চৌধুরী। ১৯৪১ সালে মুনীর চৌধুরী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই.এস.সি এবং  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে বি.এ অনার্স (১৯৪৬) ও এমএ (১৯৪৭) পাস করেন। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলায় এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।

খুলনার ব্রজলাল কলেজে অধ্যাপনার (১৯৪৭-৫০) মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ঢাকার জগন্নাথ কলেজে (১৯৫০) এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি ও বাংলা বিভাগে (১৯৫০-৭১) অধ্যাপনা করেন।

১৯৪৯ সালে বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রথমবার গ্রেফতার হন তিনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আবারো কারাবন্দি হন। ওই অবস্থায় ১৯৫৩ সালে তিনি তার বিখ্যাত নাটক ‘কবর’ রচনা করেন।

'কবর' ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত। ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি নাটকটি রচিত হয়; তখন তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দি।

মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কি-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যেটি আজও মুনীর অপটিমা নামে পরিচিত। 

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য নাটক। রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

মুনীর চৌধুরী ১৯৭১ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার কিছুকাল পরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তার কিশোর ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যায়। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে মে-জুন মাসে ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে এবং জুলাই মাস থেকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আলবদর বাহিনী তার বাবার বাড়ি থেকে অপহরণ করে ও সম্ভবত ওই দিনই তাকে হত্যা করে।

মুনীর চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা সেই নাটক চাই, যে নাটক আমাদের নাড়াতে পারে, বাড়াতে পারে। আজ শহিদ মুনীর চৌধুরী আমাদের মাঝে নেই; আছে তার অবিনাশী নাট্যকর্ম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার নাট্যকর্মকে লালন করে নিজেদের বিকশিত করতে সমর্থ হবে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়