ঢাকা, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৫৭, ৩ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ-ব্রিটেনের বাণিজ্য বিষয়ে বৈঠক জানুয়ারিতে

ছবি: পিআইডি

ছবি: পিআইডি

ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন উদ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক পরিচালনার জন্য জানুয়ারি মাসে দুদেশের মধ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার সরকারি বাসভবনের অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটেনের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ব্রিটেন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে।

‘ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আলাদা (ব্রেক্সিট) হওয়ার পর নতুন বাণিজ্য নীতিতে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে আশা করছি। ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ব্রিটেনের আগ্রহে বাংলাদেশ উৎসাহ বোধ করছে। নতুন উদ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সঠিক পথে পরিচালনার জন্য উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা জরুরি। আগামী জানুয়ারি মাসেই উভয় দেশের মধ্যে (জি টু জি) বাণিজ্য বৈঠকের আয়োজন করা হবে, বলেন মন্ত্রী।

তিনি জানান, ব্রিটেনের অনেক বিনিয়োগ বাংলাদেশে রয়েছে। আরো বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারতসহ বেশ কিছু দেশ সেখানে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে।

আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ-ব্রিটেন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। এ সময় ব্রিটেন বাংলাদেশকে বাণিজ্য ক্ষেত্রে চলমান সুযোগ-সুবিধাগুলো প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে আশা করছি।

মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ এবং এফটিএ করে বাণিজ্য সুবিধা সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ প্রচেষ্টা শুরু করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ব্রিটেন সহযোগিতা করছে, সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ব্রিটেনে পড়া লেখা করেন। অনেকেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য ব্রিটেনে যান। কিন্তু অনেকেই ইচ্ছা থাকার পরও আর্থিক কারণে সেখানে যেতে পারেন না। ব্রিটেন বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুললে বাংলাদেশের আরো অনেক শিক্ষার্থী সেখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পাবে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্রিটেন বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈঠক করে এ বিষয়ে বিস্তারিত কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের চলমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত থাকবে। আগামীতে তা আরো বাড়ানোর প্রচেষ্টা থাকবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্রিটেন বাংলাদেশকে অধিক গুরুত্ব দেয়।

উল্লেখ্য, ব্রিটেন বাংলাদেশের রপ্তানির এক বড় বাজার। গত অর্থবছর বাংলাদেশ ব্রিটেনে রপ্তানি করেছে ৩৪৫৩.৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। একই সময়ে আমদানি করেছে ৪১০.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। উভয় দেশের মধ্যে এ বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়