ঢাকা, শনিবার ২৯ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৯:১০, ৫ ডিসেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৯:৩১, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

ভাস্কর্য যে কোন উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে নিষিদ্ধ, বলছেন আলেমদের একাংশ

ছবি: GETTY IMAGES

ছবি: GETTY IMAGES

সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইপাড়ে নির্মাণ হতে যাওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের বিতর্কিত একটি বক্তব্য থেকে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্ক। এ বিতর্ক ক্রমশ চরম আকার ধারণ করে।

চলমান এই বিতর্কের মাঝেই দেশটির ইসলামী ধারার একাংশ ভাস্কর্য নিয়ে তাদের নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (৫ ডিসেম্বর) যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের আয়োজনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে দেশের অনেক আলেমরা অংশ নেন।  

যাত্রাবাড়ি মাদ্রাসায় বৈঠকের পর আলেমদের দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "মানবমূর্তি ও ভাস্কর্য যে কোন উদ্দেশ্যে তৈরি করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি কোন মহৎ ব্যক্তি ও নেতাকে মূর্তি বা ভাস্কর্য স্থাপন করে শ্রদ্ধা জানানো শরিয়তসম্মত নয়।"

কোন ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য "কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোন উত্তম বিকল্প সন্ধান করাই যুক্তিযুক্ত" বলে বিবৃতিতে জানান আলেমরা।

গতকাল (শুক্রবার) কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠনের ডাকা ভাস্কর্য বিরোধী বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হবার পর পুলিশ সেটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গত মাসে বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী এক সম্মেলনে ভাস্কর্য বিরোধী কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

হেফাজতের শীর্ষ ওই নেতার মন্তব্যের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ভাস্কর্য তৈরির পক্ষে তাদের শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার ইঙ্গিতও দেন।

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) আন্দোলনকারী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তারা ভাস্কর্য তৈরির বিপক্ষে কথা বলেই যাবেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, "শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আন্দোলন করবো। যেটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের দাবিটা জানিয়েই যাব, কথা বলেই যাব। সেটা সরকার রাখবে কি রাখবে না সেটা সরকারের বিষয়," তিনি বিবিসিকে বলেন।

ভাস্কর্য ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অবস্থান

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে হেফাজতের বর্তমান আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় আওয়ামী লীগেও। ভাস্কর্য তৈরির পক্ষে সরকারের কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এছড়া প্রগতিশীল চিন্তার মানুষেরাও ভাস্কর’র পক্ষে মতামত ও অবস্থান ব্যক্ত করেন। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠকেরা ভাস্কর‘র পক্ষে রাজপথে নেমেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে একটি ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্য দিচ্ছে" এবং তিনি আরও বলেন তারা "ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ধর্মপ্রিয় মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরির চেষ্টা করছে"।

এদিকে আজ বৈঠকে আলেমরা অনেকগুলো বিষয়ে প্রস্তাব রেখেছেন সরকারের কাছে। তাঁর মধ্যে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসলামের নবীর প্রতি অবমাননাকর আচরণের ওপর কঠোর নজরদারি ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এছাড়াও তাদের আন্দোলনে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তিদান, তাদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ ও দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়