হেলাল আহমেদ
আপডেট: ১৮:৩১, ১০ ডিসেম্বর ২০২০
পদ্মা সেতুর জন্য মন্ত্রীত্ব হারিয়েছিলেন আবুল হোসেন
স্বপ্নের পদ্ম সেতু বাস্তবে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের মানুষের কাছে। বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামো। বিভিন্ন সময়ের বিতর্ককে পিছনে ফেলে এই অবকাঠামো দাঁড় করানো অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছিলো বর্তমান সরকারের। কিন্তু পদ্মা সেতুর স্বপ্ন আজ বাস্তব।
পদ্মা সেতু কোটি বাঙালির স্বপ্ন। তবে যাত্রার সূচনায় যার জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো এই পদ্মা সেতু তিনি সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। বিশ্ব ব্যাংকের আনা অভিযোগের কারণে যাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো দায়িত্ব থেকে।
২০১২ সালে পদ্মা সেতুকে ঘিরে এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রাখা হয় সৈয়দ আবুল হোসেনকে। পদ্মা সেতু ঋণের শর্ত হিসেবে বিশ্ব ব্যাংক তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরানোর আবেদন জানায়।
পরে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিলে ২০১২ সালের ২২ জুলাই (সোমবার) তিনি পদত্যাগ করেন।
যেভাবে বিতর্কের শুরু
পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধান ঋণদানকারী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের ১২০ কোটি ডলার অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও তারা ২০১২ সালের জুন মাসে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ঋণচুক্তি বাতিল করে।
দুর্নীতির তদন্তে বাংলাদেশ সহযোগিতা করছে না জানিয়ে বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তার চুক্তি বাতিল করায় অন্যান্য সহযোগিরাও এ প্রকল্পে ঋণ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ।
পরে বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছিলো বহু আলোচনার পরও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে চারটি প্রস্তাবের মধ্যে দুটিতে সরকার কোন ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বিধায় তারা সহযোগিতা বন্ধ রেখেছে।
বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্তটিতে বলা হয়েছিল দুর্নীতির তদন্ত চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন থেকে সরকারি ব্যক্তি- আমলা ও রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের পদত্যাগ করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী এএমএ মুহিতও তখন বিশ্ব ব্যাংকের এই ঋণ পেতে শর্তটি মেনে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলছিলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে সরকার এখনও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১২০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বিশ্ব ব্যাংকের শর্তানুযায়ি তৎকালীন সৈয়দ আবুল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরানো হলেও পরবর্তীতে বিশ্ব ব্যাংক আর সহযোগিতা করেনি।
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হেসেনকে ‘অর্থপ্রেমিক’ আখ্যায়িত করে বলেছিলেন, তার কারণেই দেশের রাস্তাঘাটের এই করুণ অবস্থা।
অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্ব ব্যাংক
দুর্নীতির অভিযোগে সৈয়দ আবুল হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করালেও পরবর্তী সময়ে দুদকের তদন্ত এবং কানাডার আদালতের রায়ে আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলা হলে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মনগড়া ও অসত্য বলে প্রমাণিত হয়। আদালতে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে নি বিশ্ব ব্যাংক।
সৈয়দ আবুল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ভিত্তিহীন ও বানোয়াটই ছিল না, তা ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত।
পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে এদেশের গণমাধ্যমগুলোতে সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। তাঁর অফিস মেরামত ও গাড়ি ক্রয়, কালকিনিতে ট্যাক্স প্রদত্ত অর্থে নির্মিত বাড়ি নিয়ে, সড়ক দুর্ঘটনাকে পুঁজি করে একাধারে খবর প্রকাশ করা হয়। এসব পত্রিকার পেপার কার্টিং বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয় ইংরেজিতে অনুবাদ করে। কিন্তু প্রমাণ হিসেবে এগুলো যথেষ্ট না হওয়ায় দুদক এবং কানাডার আদালতে দুর্নীতির বিতর্ক থেকে মুক্তি পান সৈয়দ আবুল হোসেন।
আদালতের রায়ের পড়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবেই যে ওই অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা এই রায়ে প্রমাণিত হলো।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও এটিকে বিশ্ব ব্যাংকের সাজানো অভিযোগ বলেছেন। তিনি তার ফেসবুক পাতায় লিখেছিলেন, এই রায়ে এটাই প্রমাণিত হলো যে, এটি ছিল বিশ্বব্যাংকের একটি সাজানো অভিযোগ।
‘মোহাম্মদ ইউনুসের পরামর্শে আর হিলারি ক্লিনটনের নির্দেশে বিশ্বব্যাংক একটি সাজানো অভিযোগ তুলে, আওয়ামী সরকারকে শাস্তি দেয়ার জন্যই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে। তিনি মনে করেন, যারা এসব অভিযোগ আমলে নিয়েছেন, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন জয়।
সব বিতর্ক শেষে বাস্তব হলো স্বপ্ন
তবে বিশ্ব ব্যাংক অর্থ সহায়তা বন্ধ করে দিলেও পদ্মা সেতুর কাজ দমে যায়নি। কেননা এই পদ্মা সেতু নির্মাণ ছিলো আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। তাই বিশ্ব ব্যাংক পিছিয়ে গেলেও নিজ অর্থায়নে কোটি মানুষের স্বপ্নকে আজ বাস্তবে রূপ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পদ্মার বুকে দৃশ্যমান হয়েছে পুরো পদ্মা সেতুর অবকাঠামো। আজ সকালে ৪১ তম স্প্যানটি বসার মাধ্যমে মাওয়া-জাজিরা প্রান্তর সংযুক্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে খুলেছে নতুন শিল্প সম্ভাবনার দোয়ার।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























