ঢাকা, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৫৮, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী হবে খুলনা

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

পদ্মা সেতু চালু হলে স্বপ্ন পূরণ হবে দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার মানুষের। বদলে যাবে সেইসব অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য। খুলবে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের দ্বার। আরো সহজ হবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। এ অঞ্চল হবে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোন।
 
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে চলেছে। এ অঞ্চলে বৈরী অবস্থা ছিল, কিন্তু সেটি পেরিয়ে গেছে। পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর উজ্জীবিত হবে। বাড়বে পোর্টের ব্যবহার। রাজধানীর সঙ্গে মোংলা বন্দরের দূরত্ব কমবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ঢাকা-মোংলা বন্দরের অন্তত ৮৭ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে। ফলে ব্যবসায়ীরা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মোংলা পোর্ট ব্যবহারে আগ্রহী হবে। মোংলা বন্দর থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন বাণিজ্য সম্ভব। আর পদ্মা সেতু চালু হলে তা বেড়ে ১০ বিলিয়নে চলে যাবে। মোংলা-পায়রা সমুদ্র বন্দর, সুন্দরবনসহ এ অঞ্চলে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে। সার্বিকভাবে দক্ষিণাঞ্চল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে। দেশের জিডিপিতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জনে অবদান রাখবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলার গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ের মধ্যে পণ্য পরিবহন করে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি ও আমদানিতে উৎসাহিত হবেন। পদ্মা সেতু নির্মাণের পর পায়রা বন্দরের গুরুত্বও বাড়বে। প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হলে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে এই বন্দরও একটি বৃহত্তম বন্দরে রূপান্তরিত হবে। এমনকি ভূটান, পূর্ব নেপাল ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের জন্য পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত খুলনার হিমায়িত মৎস্য ও পাট শিল্প থেকে আয় আরো বাড়বে। পাশাপাশি কমে যাবে পণ্য পরিবহণের খরচ। একইভাবে পদ্মা সেতুতে রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহন, সাধারণ মানুষের যাতায়াতসহ পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গেও রেল যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনার দিক উন্মোচিত হবে। নেপাল-ভূটান পোর্ট ব্যবহার করবে। খান জাহান আলী বিমানবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর হতে যাচ্ছে। এ অঞ্চল থেকে দেশের দূর-দূরান্তে পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। এর সঙ্গে চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ এবং পদ্মা সেতুতে যান চলাচল শুরু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হবে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল।

খুলনাঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, পদ্মা সেতু হলে সুন্দরবনে পর্যটক বেশি আসবে। হোটেল ব্যবসা জমজমাট হবে। এ অঞ্চল নতুন শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে। অনেক তৈরি পোশাক কারখানা গড়ে উঠবে। আবাসন ব্যবসা দ্রুত বিস্তার পাবে। এসব ব্যবসার পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবসাও গড়ে উঠবে।

সেতু তৈরির সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে জিডিপি বাড়বে। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। মোংলাবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলবে, সহজ হবে মানুষের চলাচলও।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়