নিজস্ব প্রতিবেদন
`আমরা ক্ষমতায় গেলে ভাস্কর্য সরানো ছাড়া উপায় থাকবে না`
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ মন্তব্য করেছেন, 'হেফাজত নতুন রাজাকার হয়ে দাঁড়াচ্ছে'। সজীব ওয়াজেদ জয়ের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হুমকি দিয়ে বলছে, 'যদি আমরা ক্ষমতায় আসে তাহলে ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকবে না।'
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে 'ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর' শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ সাম্প্রতিক ভাস্কর্য বিরোধী কর্মকাণ্ডের হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেছিলেন, একাত্তরে জামায়াত ইসলামের ভূমিকা এখন হেফাজতে ইসলাম নিচ্ছে।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা হেফাজতের যুগ্ম- মহাসচিব মামুনুল হক।
তিনি বলেছেন, ভাস্কর্য বিরোধিতার সাথে রাজাকার হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। ভাস্কর্য বিষয়ের সাথে রাজাকারের কোন সম্পর্ক আছে বলে আমরা মনে করি না। কুরআন,সুন্নাহ আলোকে ভাস্কর্য বা মূর্তি বা যেকোন প্রাণীর দেহ বিশিষ্ট অবয়ব সেটা ইসলাম গ্রহণ করে না। এটা রাজাকারের সঙ্গে কোন সম্পর্ক না।
যা বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা
সম্প্রতি রাজধানীর ধোলাইপাড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে কট্টর অবস্থানে যায় হেফাজতপন্থী ইসলামিক দলগুলো। বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিলে এ ব্যাপারে সরব হন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা ভাস্কর্য বিরোধীদের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তোলে ধরেন। একই সাথে এই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশে ভাস্কর্য নির্মাণ হবেই। কোনো ধর্মীয় শক্তির কাছে মাথা নত না করার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেন নেতারা।
আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকতে হলে বাংলাদেশের সংবিধান মানতে হবে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা আছে, আর ইসলামী দলগুলো ইসলামী অনুশাসন চাচ্ছে। মি. হানিফ বলছেন 'তারা একাত্তরের রাজাকারদের মানসিকতায় পোষণ করে'।
তিনি আরও বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে হলে আগে আপনাকে সংবিধান মানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যা অর্জন করেছিলাম স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সংবিধান, সেই সংবিধানে যেগুলা আছে সেগুলাই তো মানে না। এরা একাত্তরে রাজাকার ছিল, এখনো আছে। সেই মন-মানসিকতায় পোষণ করে" বলছিলেন মি. হানিফ।
ভাস্কর্য বিরোধী খেলাফত মজলিসের অবস্থান ও মামুনুল হকের বক্তব্য
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস নামক একটি ইসলামিক সংগঠন জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় গেলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলা ছাড়া আর কিচ্ছু করার থাকবে না।
এদিকে হেফাজতের মহাসচিব মামুনুল হক বলছেন, তারা একটা নিবন্ধিত সংগঠন হিসেবে রাজনীতিতে আছেন। যদি ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ইসলামী আইন অনুসারে দেশে ভাস্কর্য রাখার অবকাশ থাকবে না।
তিনি বলছেন "আমি একটা নিবন্ধিত সংগঠন খেলাফত মজলিসের মহাসচিবের দায়িত্বে আছি, আমরা তো রাজনীতি করছি। এবং আমাদের অনেকগুলো ইসলামী সংগঠন বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধিত হয়ে রাজনীতি করছে"।
মামুনুল হক বলছেন, "আমাদের সকলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ঘোষণা হল আমরা দেশে রাষ্টীয় পর্যায়ে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে চাই। আমাদের সেই প্রচেষ্টা সফল হলে, ইসলামি হুকুমত বাস্তবায়িত হলে ভাস্কর্য সরিয়ে না ফেলার কোন অবকাশ থাকবে না"।
আইনিউজ/এইচএ
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























