ঢাকা, শুক্রবার ২৮ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১৩ ১৪৩৩

শ্যামলাল গোঁসাই

প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভিনদেশী সৈনিকদের গল্প

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শুধু বাঙালিরাই যে অংশগ্রহণ করেছিলেন তা কিন্তু নয়। বরং, স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান ব্যক্তিরা নিজ নিজ জায়গা থেকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন।  

নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপরে পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত হামলার বিকৃত ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে সেদিন পৌঁছে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বিদেশী বন্ধুরা। কেউ সেসব দৃশ্য বিশ্ব পাঠকের কাছে তোলে ধরেছেন কলমের জোরে কেউ আবার গলায় তোলে নিয়েছিলেন গান।

সেদিন যে যেভাবে পেরেছিলেন বাইরের পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের করুণ ইতিহাস তোলে ধরেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে অংশ নেওয়া বিদেশী বন্ধুদের নিয়ে আজকের এই লেখা-

 সাংবাদিক সাইমন ড্রিং 

সাংবাদিক সাইমন ড্রিং এর নাম ততোদিন এ দেশ মনে রাখবে যতোদিন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়বে। কারণ কলম আর ক্যামেরা হাতে নিজের জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে নিরীহ বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন সাংবাদিক সায়মন ড্রিং।

একাত্তর সালে সাইমন ড্রিং ২৭ বছর বয়সের একজন যুবক। তখন নামকরা পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফের  সাংবাদিক সাইমন।

মুক্তিযুদ্ধে  আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তানি সামরিক সরকার ২৫ মার্চ বিশ্বের বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলোর ৪০ সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দেয়। সেই দলে ঢুকে পড়েন সাইমন। আসেন বাংলাদেশে।

পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের চিত্র তিনি তুলে ধরেন বিশ্ববাসীর সামনে। এক সময় সাংবাদিকদের জন্য অবস্থা প্রতিকূলে চলে গেলে তিনি দেশত্যাগ না করে লুকিয়ে থাকেন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে।

পকিস্তানি বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে আসেন শহরে। ঢাকার বুকে তখন হত্যা, ধ্বংস আর লুটপাটের চিহ্ন। পর্যাপ্ত ছবি আর প্রত্যক্ষ ছবিগুলো নিয়ে তিনি পালিয়ে চলে গেলেন ব্যাংককে। আর সেখান থেকে প্রকাশ করলেন ‘ট্যাঙ্কস ক্রাশ রিভল্ট ইন পাকিস্তান’। বিশ্ববাসীর সামনে তিনি তুলে ধরলেন নির্মম বাস্তবতাকে। তার পাঠানো খবরেই নড়েচড়ে বসল পুরো বিশ্ব।

বীরপ্রতীক ওডারল্যান্ড

পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতার কাহিনী বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেবেন— এ মন্ত্রেই ’৭১ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়িয়েছেন ‘মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সঙ্গে। তারা একটি ট্রাকে ঘুরে বেড়াতেন ভারতের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আর মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে।

সুযোগ পেলে দেশের ভিতরের মুক্তাঞ্চলেও চলে আসতেন। আর সেখানে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধা ও গেরিলাদের দেশাত্মবোধক গান শুনিয়ে, পুতুলনাচ দেখিয়ে উজ্জীবিত করতেন। প্রায় ২০ ঘণ্টার ক্যামেরা ফুটেজ তৈরি করলেন তিনি। তারপর ফিরে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রে। শুরু করলেন ডকুমেন্টারিটি তৈরির কাজ। কিন্তু টাকার অভাবে শেষ করতে পারলেন না ডকুমেন্টারিটি। পরে অবশ্য আমাদের দেশের আরেকজন বিখ্যাত পরিচালক তারেক মাসুদ আর তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ লেভিনের কাছ থেকে ফুটেজগুলো নিয়ে তৈরি করেন ‘মুক্তির গান’।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়