নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০০:১৫, ১৭ মার্চ ২০২১
আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, বুধবার। সেদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার শেখ পরিবারে জন্ম নেয় এক শিশু। যে পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিল বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী। যার ডাকে জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাঙালিরা। তিনি আর কেউ নন। আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ বুধবার সেই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালির ১০১তম জন্মদিন।
টুঙ্গিপাড়ায় মুজিবুর রহমানকে খোকা নামেই পরিচিত ছিলেন। তখন আশপাশের কেউই ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি, এই খোকাই হয়ে উঠবে বাঙালির ভাগ্য নিয়ন্তা।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন পিতা শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল, গোপালগঞ্জ সরকারী পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন।
বাবা-মায়ের সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
খোকা থেকে জাতির জনক হওয়ার পরিচয় পাওয়া যায় তার শৈশবের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই। খোকা থেকে জাতির জনক হয়ে ওঠা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল পরিদর্শন করতে আসা অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের কাছে স্কুল সংস্কারের দাবি উপস্থাপন ছিল খোকার এক সাহসী পদক্ষেপ এবং জাতির জনক হওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এরপর রাজনীতিতে প্রবেশ, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা পেশ, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের ফলে জেল থেকে মুক্তি, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং অবশেষে ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয়মাসের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালিদের, তথা বাংলাদেশকে স্বাধীন করার মাধ্যমেই তিনি খোকা থেকে জাতির জনক হয়েছেন। তার এই জাতির জনক হওয়ার পথে তিনি অনেক জুলুম, অত্যাচার এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। শেখ মুজিবুর রহমান এসকল অসহনীয় কষ্ট সহ্য করার পরই জাতির জনক হয়েছেন।
শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক কিংবা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালি তথা বাংলাদেশের বন্ধু। তাই তিনি বাঙালির কাছে বঙ্গবন্ধু নামেই অধিক পরিচিত। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত সম্মেলনে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমেদ। সেই থেকে টুঙ্গিপাড়ার সেই ছোট্ট খোকা আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হন।
শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন বঙ্গবন্ধু
১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ এই ২৩ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে প্রায় অর্ধেক সময়ই বঙ্গবন্ধু কারাবন্দি ছিলেন। দীর্ঘ জেল-জুলুম সহ্য করে বাঙালি জাতিকে মুক্তিসংগ্রামের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ আ.স.ম. আবদুর রব ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীকালে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী তাকে সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতির পিতা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সাংবিধানিকভাবে দেরিতে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ১৯৭১ সাল থেকেই তিনি বাংলাদেশের জনক। তার হাত ধরেই বাংলাদেশ নামক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে। তাই তিনিই হলেন বাংলাদেশ তথা বাঙালি জাতির জনক। আর এভাবেই পিতা লুৎফর রহমান ও মাতা সায়েরা খাতুনের আদরের খোকা জাতির জনকে পরিণত হন।
একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত নতুন রাষ্ট্রে সেটা ছিল তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ তিনি গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসেরই দায় থেকে। সফলও হয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রের অবকাঠামো নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদেশি রাষ্ট্রসমূহের স্বীকৃতি আদায়- প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সপরিবারে বাঙালির শ্রেষ্ঠ নেতা
কিন্তু দুঃখের বিষয়, তিনি যখন জাতিকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল বিপথগামী সেনাসদস্য তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জাতি হারিয়েছে তাদের মুক্তিদাতা এক মহান নেতাকে।
বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে বঙ্গবন্ধু ছিলেন ক্ষণজন্মা পুরুষ। অনন্য সাধারণ এই নেতাকে ‘স্বাধীনতার প্রতীক’ বা ‘রাজনীতির ছন্দকার’ খেতাবেও আখ্যা দেয়া হয়। বিদেশি ভক্ত, কট্টর সমালোচক এমনকি শত্রুরাও তাদের নিজ নিজ ভাষায় তার উচ্চকিত প্রশংসা করেন।
জাতির জনক আমাদের মধ্যে না থাকলেও তার জীবনাদর্শকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে আমাদের। তার স্বপ্ন প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে বিরাজ করবে এবং তার অপূর্ণ স্বপ্নকে বাঙালি বুকে ধারণ করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সক্ষম হবে এই আমাদের প্রত্যাশা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে এ দিনটি। গত বছর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মদিন থেকে শুরু হয় মুজিববর্ষ, যা এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
এই দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসেবেও উদযাপিত হয়। এবারের জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর হৃদয় হোক রঙিন’।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আইনিউজ/এসডিপি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক



























