নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০০:০৮, ২৯ মার্চ ২০২১
আজ পবিত্র শবে বরাত
ফাইল ছবি
আজ সোমবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে পালিত হবে ভাগ্য রজনীর রাত- পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শবে বরাত পালন করবে মুসলিম সম্প্রদায়।
শাবান মাসের ১৪ তারিখের এ রাতকে মুক্তির রাত বা নাজাতের রাত হিসেবে অবহিত করা হয়। এ রাতে সৃষ্টিকর্তার আছে পাপ থেকে মুক্তি কামনা করে প্রার্থনা করা হয়। এ রাতে অনেকেই নফল নামাজ, কোরআন তেলওয়াত ও দোয়া করে থাকেন।
শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ’ শীর্ষক ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
২০২১ সালের ছুটির বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৫ মার্চ শাবান মাস শুরু ধরে ২৯ মার্চ শবে বরাতের সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। সাধারণত শবে বরাতের পরের দিন সরকারি ছুটি থাকে। কিন্তু এবার রজব মাস ৩০ দিনে শেষ হয় এবং শাবান মাস শুরু হয় গত ১৬ মার্চ। সেই হিসাবে এবার শবে বরাতের রাত হবে ২৯ মার্চ। এ জন্য শবে বরাতের ছুটি পুনর্নির্ধারণ করে ৩০ মার্চ করা হয়।
লাইলাতুল বরাত
শবে বরাত (আরবি: ليلة البراءة, প্রতিবর্ণী. লাইলাতুল বরাত) বা মধ্য-শা'বান (আরবি: نصف شعبان, প্রতিবর্ণী. Niṣf Sha‘bān) হচ্ছে আরবি শা'বান মাসের ১৫ তারিখে পালিত একটি পূণ্যময় রাত। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মুসলমানগণ বিভিন্ন কারণে এটি পালন করেন। এই রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। এই রাতকে আরবিতে 'লাইলাতুল বারাআত' বলা হয়। 'বারাআত' নামক আরবি শব্দটির অর্থ নিষ্কৃতি। মুসলমানদের বিশ্বাস মতে, এ রাতে বহু সংখ্যক বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও আশীর্বাদ লাভ করে জাহন্নাম থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেন। তাই, এ রজনীকে আরবিতে 'লাইলাতুল বারাআত' বা 'নিষ্কৃতির রজনী' বলা হয়।
এই বিশেষ রাতের ব্যাপারে কুরআনে সরাসরি কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। তবে, সিহাহ সিত্তাহ বা বিশুদ্ধ ছয়খানা হাদিস গ্রন্থের কোনো কোনো হাদিসে এই রাতের বিশেষত্ব নির্দেশক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থেও এই রাতের বিশেষত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়।
শবে বরাত উদযাপন
বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশে শবে বরাত পালনের এক দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ গড়ে উঠেছে। শবে বরাত উপলক্ষে প্রতিটি বাড়িতে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন স্বাদের খাবার। এসবের মধ্যে রয়েছে রুটি, বিভিন্ন রুচির হালুয়া, সুজি, মিষ্টান্ন। বিকেলে বা সন্ধ্যায় পাড়া প্রতিবেশিদের মাঝে এসব খাবার বিতরণ ও পরিবেশন করা হয়। এতে সামাজিক হৃদ্যতা ও সৌহার্দের সম্পর্ক গড়ে উঠে বলে স্থানীয় মুসলিম গণ বিশ্বাস করে থাকেন। এই রাতে অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট সর্বত্র আলোক সাজসজ্জা করা হয়। আতশবাজি উৎসব দেখা যায়।
শবে বরাত উপলক্ষে ১৪ শাবান দিন থেকেই ঘরে ঘরে রুটি, হরেক প্রকার হালুয়া ও বিচিত্র সব মিষ্টান্ন তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। বিকেলের মধ্যে এগুলো সম্পন্ন হলে, পাড়া-প্রতিবেশিদের মধ্যে বিতরণ করা শুরু হয়। এতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ পড়ে যায়। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন বিশেষ আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় সভার আয়োজন করে। এশার নামাজের শুরু থেকে, বিশেষত মাগরিবের নামাজের পর থেকেই, মসজিদ পানে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ঢল নামে। প্রায় সকল মসজিদেই শবে বরাত শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতভর ইবাদত বন্দেগির নিমিত্তে সারা বাংলাদেশের সমস্ত মসজিদ পুরো রাত উন্মুক্ত থাকে। মসজিদের পাশাপাশি বাসা-বাড়িতেও রাতভর ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও বিভিন্ন ইবাদত করে থাকেন। প্রয়াত হয়ে যাওয়া আত্মীয়-স্বজনের সমাধি পরিদর্শন এ রাতের এক বিশেষ অনুষংগ হিসেবে দৃষ্ট হয়।
শবে বরাতে আতশবাজি-পটকা নিষিদ্ধ
শান্তিপূর্ণভাবে শবে বরাত পালনে আতশবাজি, পটকাবাজি, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং ফোটানো নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৩০ মার্চ ভোর ৬টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
আইনিউজ/এসডিপি
সংশ্লিষ্ট খবর
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক























