ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ১০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ২৯ মার্চ ২০২১
আপডেট: ২২:৫৪, ২৯ মার্চ ২০২১

করোনার উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের ২৯ জেলা

করোনাকালীন বাংলাদেশ। ফাইল ছবি

করোনাকালীন বাংলাদেশ। ফাইল ছবি

গত এক মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সারাদেশে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে ভাইরাসটির সংক্রমণ। একই সাথে জানানো হয়েছে দেশের ২৯টি জেলা করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্যমতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী, চাঁদপুর, নীলফামারী, সিলেট, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, মাদারীপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ ২৯ জেলায় দ্রুতগতিতে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।

সোমবার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ সকল তথ্য জানানো হয়েছে। এদিন করোনার দৈনিক সংক্রমণে রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের বলেন, গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে এবং সংক্রমণের মাত্রা ‘খুব দ্রুত বাড়ছে ’।

তিনি বলেন, মার্চের ১৩ তারিখে সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ ছিল ৬টি জেলায়, ২০ তারিখে দেখা গেছে ২০টি জেলা ঝুঁকিতে আছে। আর মার্চের ২৪ তারিখে দেখা গেছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার উচ্চ এমন জেলার সংখ্যা ২৯টি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, প্রতি জেলায় কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কমিটি রয়েছে এবং এসব কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে মিলে সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য এক সঙ্গে কাজ করবে।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার মতে, সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এই ১৮ দফা 'স্ট্রিক্টলি' অর্থাৎ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। 

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, আরটিপিসিআরের পাশাপাশি এখন হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে পরীক্ষার ক্যাপাসিটি আরও বাড়ানো হবে। নমুনা সংগ্রহের যেসব বুথ বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোও খুলে দেওয়া হবে, প্রয়োজন হলে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, যেসব জেলায় উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে, প্রয়োজনে সেসব জেলার সঙ্গে আন্তঃজেলা যোগাযোগও সীমিত করা হতে পারে। তবে সেটি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন জেলার পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে লকডাউন আরোপ করা হতে পারে, তবে সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট জেলা তাদের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে।

টিকার বিষয়ে মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের হাতে ৪২ লক্ষ টিকা মজুদ আছে। আর এপ্রিল মাসে কিছু টিকার চালান আসবে বলে সরকার আশা করছে। আমরা চেষ্টা করছি সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নির্ধারিত সময়ে দেয়ার জন্য।

এসময় রোগীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, নিজ নিজ জেলার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য। ফ্লোরা বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে রোগীরা ঢাকায় চলে আসেন, যে কারণে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ে। আর এতে রোগীরও অসুবিধা হয়, মানে ঢাকায় আনতে আনতে হয়ত তার অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

এছাড়া প্রত্যেক জেলার হাসপাতালে অক্সিজেনের সুবিধা এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধা পর্যাপ্ত রয়েছে বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

উল্লেখ্য, দেশে সোমবার (২৯ মার্চ) রেকর্ড ৫ হাজার ১৮১ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। একই দিনে মারা গেছেন ৪৫ জন।

রেকর্ড শনাক্তের ফলে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৯৫ জনে। অন্যদিকে দেশে ভাইরাসটির দ্বারা মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ হাজার ৯৪৯ জনে।

করোনা শনাক্তে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ হাজার ১৯৫ টি। একদিনে শনাক্তের হার ১৮.৩৮ শতাংশ।

২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল। এর দশ দিন পর অর্থাৎ ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যু দেখেছিল বাংলাদেশ।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়