নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৫১, ১ এপ্রিল ২০২১
বাস নেই, যাত্রীদের ভোগান্তি রূপ নিলো বিক্ষোভের
সময়মতো অফিস পৌঁছাতে বাসে উঠতে না পেরে রাজধানীর খিলক্ষেতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে রাস্তা আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশের রাস্তা বন্ধ থাকায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। রাস্তার দুই পাশে যাত্রীরা গরমে নাকাল হয়ে পড়েন।
অনেক সময় অপেক্ষার পরও গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও বয়স্করা।
করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকার গত ২৯ মার্চ ১৮টি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখার কথা বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী দুই সপ্তাহের জন্য গণপরিবহনের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যা বুধবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) কলাবাগান এলাকায় বাসের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করছিলেন খালেদা বেগম। তিনি বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা না করে হুট করে সরকারের এ ধরনের নির্দেশনার ফলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। পুরুষরা হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে পারছে, কিন্তু আমরা নারীরাতো পারছি না। কতক্ষণ পর বাসে উঠতে পারব, আর কখন যে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারব তা অনিশ্চিত।
সিরাজুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ডাক্তার দেখাতে যাব। কিন্তু কোনো বাসেই উঠতে পারছি না। বাস আসামাত্র একটি বা দুটি ফাঁকা সিটে হুড়োহুড়ি করে লোকজন উঠতে পারছেন। অধিকাংশ বাসই সিট পূর্ণ করে আসছে। এমন ভোগান্তিতে পড়তে হবে জানলে ঘর থেকেই বের হতাম না।
একই অবস্থা নীলক্ষেত-আজিমপুর এলাকায়। দীর্ঘসময় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে না পেরে বিরক্তি প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষজন। অনেকেই আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নিয়ে।
রফিকুল ইসলাম নামের এক চাকরিজীবী বলেন, করোনায় আমাদের আয় আরও সংকুচিত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দামও বেড়েছে। এখন আবার যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। সবকিছু মিলিয়ে এটি আমাদের জন্য গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
খিলক্ষেত রুটের পরিবহনগুলো উত্তরা কিংবা গাজীপুর বাস স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠিয়ে বাসের গেট বন্ধ করে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়। এতে করে পরবর্তী স্টপেজে থাকা যাত্রীরা বাসে উঠতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোনো বাসেই উঠতে পারছি না। এই কারণেই আমরা রাস্তায় অবরোধে বাধ্য হয়েছি।’
ট্রাফিক পরিদর্শক লিটন মিয়া বলেন, ‘সকালে আমরা বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের তুলে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু গণপরিবহনের সিটের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি। তাই অনেকেই বাসে উঠতে না পেরে বিক্ষোভ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করছি। কিন্তু তারা সড়ক ছাড়ছেন না। এই সমস্যার সমাধান তো আমাদের হাতে নেই।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ট্রাফিকের এডিসি বদরুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা ধরে সড়ক বন্ধ। আমরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক























