ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:১১, ৩ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৬:৪২, ৩ এপ্রিল ২০২১

ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি ঠেকাতে প্রয়োজন কঠোর লকডাউন ও যথাযথ প্রতিপালন

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডব যেন কিছুতেই থামছে না। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ মহামারিতে আজ শনিবার ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৩৮৫ জন মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৮ লাখ ৭ হাজার ১৯০ জন। দ্বিতীয় ঢেউয়ের তাণ্ডবে পড়ে বাংলাদেশেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ হাজার ৩ শত ৩৯ টি নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড ৬ হাজার ৮ শত ৩০ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩.২৮ শতাংশ। গত বছর ২ জুলাই সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে সংক্রমণের এই গতি থামাতে না পারলে করোনা পরিস্থিতি শীঘ্রই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন সরকারের পক্ষ থেকে এখনই কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়া প্রয়োজন।

গত বছরের মার্চের ৮ তারিখে বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১শত ৫৫ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও বলেছেন, হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যেই পূর্ণ হয়ে গেছে। চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালগুলোর ওপর যে হারে চাপ বাড়ছে, তাতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে আমাদের পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ চিকিৎসকসেবা প্রস্তুত নেই। তাই এত বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উত্তম পন্থা হবে সর্বক্ষেত্রে কঠোর লকডাউন। প্রয়োজন পাবলিক পরিবহন বন্ধ রাখা। কিছুদিনের জন্য শিণ্প কলকারখানা বন্ধ রাখা যায় কিনা ভেবে দেখা দরকার।

উল্লেখ্য যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত বছর সরকারের ১৬ মার্চের ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। গত বছর ২১ মার্চ থেকে দশটি দেশের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে চীন ছাড়া অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এমনকি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে কোনো ধরণের আয়োজন করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২০ সালে কোনো ধরণের আয়োজন ছাড়া বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতির সাথে সাথে সকলের চালচলনের মাঝে আসে শৈথিল্য। সম্প্রতি সারাদেশ ব্যাপী কর্মসূচির নানা আয়োজন, যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধ চলাচলের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে থাকে বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন।   

গত বছর ১৯ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে সারাদেশকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি গত বছরের চেয়েও খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এ ধরণের পরিস্থিতিতে ইউরোপের অধিকাংশ দেশে চলছে কড়া লকডাউন। কোন কোন দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, কেনিয়া, ফিলিপাইনসহ বেশ কিছু দেশকে বিপজ্জনক তালিকাভুক্ত করেছে ব্রিটেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যতে নামিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা ও জনগণের পক্ষ থেকে তা দৃঢ়ভাবে সেগুলো প্রতিপালন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

আইনিউজ/জেইউএম/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়