ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০৭, ৬ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৪:২৩, ৬ এপ্রিল ২০২১

মন্তব্য প্রতিবেদন

লকডাউনের চেয়ে জরুরি সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা

করোনা রোধে স্বাস্থ্যবিধির বিকল্প নেই

করোনা রোধে স্বাস্থ্যবিধির বিকল্প নেই

গেল বছর সরকারিভাবে ‘লকডাউন’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘সাধারণ ছুটি’র ঘোষণা ছিল। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ১০ দিনের জন্য। পরবর্তীতে অবশ্য এই সাধারণ ছুটি বেড়েছিল দফায় দফায়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা লকডাউনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলেও বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন শুধুমাত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনার ভয়কে জয় করা সম্ভব। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

লকডাউনে নাভিশ্বাস

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে ২৯ মার্চ বাংলাদেশ সরকার নতুন করে ১৮ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন। এর পর পর ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহ লকডাউনের ঘোষণা আসে। সরকার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে ৪ এপ্রিল, যেখানে ১১টি নির্দেশনা প্রতিপালনের কথা বলা হয়েছে। ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি ঠেকাতে নির্দেশনাগুলো অবশ্যই জরুরি তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্ত ঘোষণার পর থেকেই সর্বসাধারণের মধ্যে এই লকডাউন নিয়ে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এদিকে লকডাউনে জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকান বা অফিস ছাড়া সকল ধরণের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। আর এমন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলার সুযোগ দিতে। মার্কেট বন্ধ থাকলে এ সময়ে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে দাবি তাদের।

এ কেমন লকডাউন?

লকডাউনের সুবিধা নিয়ে বাড়ানো হয়েছে পরিবহন ভাড়া। এমনকি প্রান্তিক পর্যায়ের রিক্সা, টমটম ও সিএনজি ভাড়াও বেড়েছে দ্বিগুণ। ক্রেতার অভাবে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের নাকাল অবস্থা। লকডাউনের বিরুদ্ধে অনেকে রাজপথে নামতেও বাধ্য হয়েছেন। তাদের দাবী মেলা চলছে, খেলা চলছে- এ কেমন লকডাউন। অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চললেই ঠেকানো যাবে করোনার সংক্রমণ। মাস্কের সঠিক ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সঠিকভাবে প্রতিপালন করতে পারলে করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে।

থুতনিতে মাস্ক, পকেটে মাস্ক

মাস্কের ব্যবহার নিয়ে সরকার এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করলেও সর্বক্ষেত্রে মাস্কের ব্যবহার এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। থুতনিতে মাস্ক, পকেটে মাস্ক, অধিক ব্যবহারে নোংরা মাস্ক- এসব সমস্যা তো লেগেই আছে। মাস্কের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানাও মানুষ এখন পরোয়া করছে না। গ্রামে-গঞ্জে তো মাস্কের বালাই নেই। সরকারের ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতিও জনগণের সচেতনতা বাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে।

লকডাউনে ভিড় উৎসব

বর্তমান ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতির মূল কারণ মাঝখানের দীর্ঘসময় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য ভাব প্রদর্শন। রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দেশব্যাপী সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিরও ছিল বিশাল আয়োজন। বইমেলা এখনও চলছে। ব্যাংকের সময়সীমা কমিয়ে দেয়ায় ব্যাংকের ভিড় বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। সন্ধ্যা ছয়টার আগে কেনাকাটা সারতে হবে, তাই হাটবাজারেও বেড়েছে ভিড়। আর করোনাভাইরাস এই ভিড়ই তো পছন্দ করে বেশি।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা ছাড়া বিকল্প নেই

সবকিছুর বিবেচনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। আসুন, বাংলাদেশকে ইউরোপের মতো মৃত্যুপুরী বানাতে না চাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করি।

আইনিউজ/জেএম/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়