ঢাকা, মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:১৯, ১০ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ০০:২১, ১০ এপ্রিল ২০২১

লকডাউনে মার্কেট খুলতেই সারাদিন ছিলো `ঈদের ভিড়`

ছবি: ডয়েচে ভেলে

ছবি: ডয়েচে ভেলে

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে লকডাউন দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এ লকডাউনে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ও বুদ্ধিজীবীরা খুশি হলেও নাখোশ ছিলেন ব্যবসায়ীরা। সামনে 'ঈদের বাজার'। আর সেজন্যেই যেনো তারা উঠেপড়ে লাগেন বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, মিছিল-মিটিংয়ে। 

ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে লকডাউনের মধ্যেই খুলে দেখা হলো রাজধানীর বিপণিবিতান। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। চলমান লকডাইনে চার দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার মার্কেট খুলতেই কেনাকাটায় ঈদের ভিড় লেগে যায়। তাতে বালাই ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনি চক, ইস্টার্ন মল্লিকাসহ আশপাশের মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং মল ও টোকিও স্কয়ার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত সোমবার থেকে দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। অন্যান্য বিধিনিষেধের সঙ্গে বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয় নির্দেশনায়। তবে শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছেন দোকানিরা। মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে তারা আন্দোলনও করেন। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুক্রবার থেকে দিনে আট ঘণ্টা মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়।

নিউমার্কেট এলাকা গিয়ে দেখা যায়, এলাকাটি লোকে লোকারণ্য। নিউমার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। এখানকার ফুটপাতে আগের মতোই পোশাক-পরিচ্ছদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আর এসব পোশাক কিনতে ক্রেতারও কোনো কমতি নেই। বরং স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভিড় চোখে পড়ল।

নিউমার্কেটের ফুটপাতে নারীদের ওড়না বিক্রেতা সাদেক হোসেন বলেন, ‘চাইর দিন পর দোকান খুলছি। কাস্টমার তো একটু থাকবোই।’ মাস্ক অনেকে পরলেও সামাজিক দূরত্বে কোনো বালাই ছিল না মার্কেটগুলোতে।

মার্কেটের বিক্রেতাদের কাছে সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে, ‘দেশে করোনাভাইরাস বলে কিছু নেই’, ‘সবকিছুই মানুষের মনগড়া’ বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ। আবার কেউ স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব বুঝলেও তা মানতে পারছেন না বলে জানান।

নিউ সুপার মার্কেটের সামনের ওভারব্রিজে নারীদের চুলের ক্লিপ বিক্রি করেন সোহেল রানা। গত চার দিন দোকান বন্ধ থাকায় তার বিশাল ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোহেল বলেন, ‘এক লকডাউনেই তো খবর হইয়া গেছে। চাইর দিনে একটা টাকাও ইনকাম নাই। আমরা কী খাই, ক্যামনে চলি কেউ খবর রাখে?’

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়