ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ১৩ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২১:৩২, ১৩ এপ্রিল ২০২১

‘কঠোর লকডাউনে’ ব্যাংক খোলা ১০ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া আটদিনের লকডাউনে ব্যাংক খোলা থাকবে। ব্যাংকিং সময় সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত ব্যাংকিং লেনদেন চলবে। তবে অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কার্যাবলি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারিকৃত এক সার্কুলারে এই কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলার দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। তবে অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। গত ৪ এপ্রিল ডিওএস-এর জারিকৃত সার্কুলারের ১১-এর নির্দেশ অপরিবর্তিত থাকবে।’

এর আগে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যাংকিংসেবা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। একই সঙ্গের চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিবকে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংকিংসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির জন্য অনুরোধ করা হলো। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সীমিত আকারে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এলো।

মঙ্গলবার লকডাউনের আগে ব্যাংকের শেষ কার্যদিবস ছিলো। তাই গ্রাহকের চাপ সামলাতে হিমশিম অবস্থায় ছিলো ব্যাংকগুলো। ব্যাংকের প্রতিটি বুথের সামনে দেখা গেছে যাচ্ছে লম্বা লাইন। 

সারাদিন ব্যাংকে গ্রাহকদের গাদাগাদি ভিড়ের বিষয়ে ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেবা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হলেও গ্রাহকরা অনেকেই তা আমলে নিচ্ছেন না। এমনকি লাইনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ব্যাংকের সামনে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। অনেকে এসেছেন টাকা তুলতে, কেউ এসেছেন চেক জমা দিতে, কেউ এফডিআরের সুদ তুলতে। অনেককে দেখা গেছে সঞ্চয়পত্র ভাঙানো ও মুনাফার টাকা তুলতে। ব্যবসার চালান জমা দিতেও ভিড় করেন কেউ কেউ।

গ্রাহকরা জানিয়েছেন, লকডাউন, ব্যাংক বন্ধ এসব কারণ অনেকেই নগদ টাকা ঘরে রাখছেন। যে কারণে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পরিমাণ বেড়েছে। এছাড়াও রমজান মাসে খরচের টাকাও নগদ তুলে নিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

উল্লেখ্য, বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কঠোর এই লকডাউনে বন্ধ থাকবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, দোকানপাট, যানবাহন। 

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ বলেন, আগামীকাল বুধবার থেকে সারা দেশে শুরু হওয়া লকডাউনে কাউকে রাস্তায় দেখতে চাই না। এসময় ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি আরও বলেন, আমরা বিনা প্রয়োজনে কাউকে রাস্তায় দেখতে চাই না। প্রয়োজনে ঘরের বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে এবং ঘরে ফিরে স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার হবেন। আপনার মাধ্যমে যেন আপনার প্রিয়জন করোনায় সংক্রমিত না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

এছাড়াও এর আগে পুলিবাহিনী এই লকডাউনে 'হার্ডলাইনে' থাকবে বলে জানিয়েছে। 

আইনিউজ/এসডিপি/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়