সুষ্মিতা পূজা
আপডেট: ১৪:৪৯, ২১ এপ্রিল ২০২১
মহামারীর ভয়াবহতা, খুঁড়া হচ্ছে আগাম কবর
কবর খুঁড়তে ব্যস্ত এক গোরখোদক
বাংলাদেশে হঠাৎ করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। এর প্রভাবে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। দুই মাস আগে যেখানে দৈনিক মৃত্যু ১০-২০ জন ছিল, এরই মধ্যে তা একশ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে প্রতি ১৫ মিনিটে করোনা কেড়ে নিচ্ছে একটি প্রাণ। আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছেন রোগীরা।
তাদের দেয়া তথ্য অনুসারে, হাসপাতালে ভর্তির পাঁচ দিনের মধ্যে ৫২ শতাংশ করোনা রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ রোগী উপসর্গ শুরুর পাঁচ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভর্তি হয়েছিল। ১২ শতাংশ ভর্তি হয় উপসর্গ শুরু ১১ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, গত ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৪২ জন মারা গেছেন। আর এতেই বোঝা যাচ্ছে মহামারীর ভয়াবহতা কতটা।
খুঁড়া হচ্ছে আগাম কবর
রায়ের বাজার কবরস্থান। সারাদিনই সেখানে নিস্তব্ধতা। তবে মাঝে মাঝে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেনে। আসে নতুন লাশ। বর্তমানে দিন-রাত একের পর এক আসতে থাকে করোনায় মৃতদের মরদেহ।
কবরস্থান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে দিনে এক-দুইটি লাশ এলেও এখন সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০-১৫ টিতে। লাশের জানাজায় শত শত মানুষের বদলে অংশ নেন কাছের কয়েকজন।
মৃতদেহের চাপ কমাতে রায়ের বাজারের সেই কবরস্থানে ইতোমধ্যে খুঁড়ে রাখা হয়েছে আগাম কবর। যাতে সমাহিত করা হবে আগামীতে করোনায় মৃতদের।
এভাবেই খুঁড়ে রাখা হয়েছে আগাম কবর
ক্লান্ত গোরখোদকরা
দেশে সংক্রমণ বাড়ার ফলে হাসপাতালের সাথে সাথে চাপ বেড়েছে কবরস্থানে। এতে করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন গোরখোদকরা। চাপ সামলাতে এখন কবর খুঁড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে মেশিন।
গোরখোদকরা বলছেন, কবর খুঁড়তে খুঁড়তে তারা হাঁপিয়ে উঠেছেন। মৃত্যুর এমন মিছিল তারা দেখেননি বলেও জানান।
হাঁপিয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও
করোনায় মৃতদের দাফন-কাফন করে আল-মারকাজুল ইসলামী নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের অফিসের সামনে প্রতিদিনই থাকে লাশবাহী গাড়ির লম্বা সারি। সকাল থেকে একের পর এক লাশ আসতে থাকে সেখানে।
আল-মারকাজুল ইসলামীর চেয়ারম্যান হামজা ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, দেশে হঠাৎ করে করোনায় মৃত্যু বেড়ে যাওয়া ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
রায়ের বাজার কবরস্থান
যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, দেশে করোনায় মৃত্যু কমাতে হলে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। যদি প্রত্যেক শনাক্তকারী রোগীকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসি, তাহলে তাদের অবস্থা গুরুতর হবে না। আর এতে রোগ সংক্রমণ কমে যাবে।
দেশের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মঙ্গলবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, একদিনে করোনা সংক্রমিত আরও ৯১ জন মারা গেছেন। ফলে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৮৮ জনে।
একই সময়ে ২৭ হাজার ৫৬ টি নমুনা পরীক্ষায় ৪ হাজার ৫৫৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৬ হাজার ৮১১ জন। ফলে দেশে করোনা থেকে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬ লাখ ২৮ হাজার ১১১ জনে।
সংক্রমণ রোধে দেশে চলছে লকডাউন
লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ৭ দিন
করোনার সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরও সাতদিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানানো হয়েছে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে কঠোর লকডাউন।
এ বিষয়ে সোমবার জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, সাইন্টিফিক্যালি ১৪ বা ১৫ দিন লকডাউন না হলে সংক্রমণের চেইনটা পুরোপুরি ভাঙা সম্ভব হয় না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী ২২ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে। এই লকডাউন আরও কঠোর হবে।
তিনি বলেন, সংক্রমণ ম্যানেজ করা আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা মনে করছি, আরো সাতদিন লকডাউন দিলে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক



























