মাসুদ হাসান
প্রকাশিত: ১২:৪১, ১৯ মে ২০২১
আপডেট: ১৪:৫৭, ১৯ মে ২০২১
আপডেট: ১৪:৫৭, ১৯ মে ২০২১
দ্বিতীয় ডোজের টিকা না আসলে কি হবে উপায়!
হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা অনুমোদিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে আসা কোভিশিল্ড টিকার চালান। আবার কবে আসবে টিকা, সে দুশ্চিন্তায় আছেন বেশ কয়েক লাখ মানুষ। সময়মতো সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা না আসলে কি হবে উপায়! বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের নীতিনির্ধারকরাও। টিকার দ্বিতীয় ডোজের সংশয় নিয়ে আইনিউজের বিশেষ প্রতিবেদন।
একই ধরনের টিকায় সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু সে সুযোগ যদি একেবারেই না থাকে, তাহলে মিশ্র টিকা, অর্থাৎ দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অন্য টিকা নেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষতি হবে না, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটু ভিন্ন ধরনের হতে পারে।
টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে যত সংশয়
সংক্রামক ব্যাধি ঠেকানোর জন্য ভ্যাকসিন বা টিকা অত্যাবশ্যক। টিকা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। করোনাভাইরাসের এই অতিমারির সময় বাংলাদেশেও প্রধান ভরসা হলো টিকা। দেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করার জন্য অন্তত ১০ কোটি মানুষকে টিকা দিতে হবে। যাদেরকে প্রতিদিন কাজে বের হতে হয় তাদের তো স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি টিকা নেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। সত্যি কথা বলতে কি টিকা দিতে না পারলে সাবধান থাকার পরেও সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যায়। যারা নিবন্ধন করেছেন ও প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্যে অপেক্ষা করছেন তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানাধরণের সংশয়।
বাংলাদেশে এখন চলছে একমাত্র সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা
বাংলাদেশে এখন করোনাভাইরাসের একটা টিকাই চলছে-অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা অনুমোদিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কোভিশিল্ড। বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকোর মাধ্যমে সিরাম ইন্সটিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি টিকা কেনার চুক্তি করেছিল সরকার। গত নভেম্বরে সম্পাদিত ওই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসার কথা ছিল। কিন্তু অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার উপর ভারত সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাসের তিন কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশকে সরবরাহ করতে পারছে না সেরাম।
সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশর অগ্রিম কেনা তিন কোটি ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা (কোভিশিল্ড) ভ্যাকসিন সময়মতো আসছে না। এ পর্যন্ত জানুয়ারি মাসে সেরাম থেকে ঠিকই ৫০ লাখ ডোজ এসেছিল, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ লাখের মধ্যে আসে ২০ লাখ ডোজ অর্থাৎ সেরাম থেকে মোট পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ডোজ। ভারত সরকারের কাছ থেকে ২০ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পায় বাংলাদেশ। ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপহার নিয়ে আসেন ১২ লাখ ডোজ। এছাড়াও ভারতের সেনাপ্রধান বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে উপহার হিসেবে দেয় ১ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে ভ্যাকসিন প্রাপ্তি এক কোটি তিন লাখ ডোজ। দুই ডোজ করে এই টিকা ৫১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দেওয়া সম্ভব। আগামী জুলাইয়ের আগে সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
টিকাদানে যখন এগিয়ে বাংলাদেশ
দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয়ভাবে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলে। দ্বিতীয় ডোজ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয় গত ৮ এপ্রিল থেকে। টিকা প্রয়োগকারী দেশ হিসেবে বিশ্বে ৫৪তম স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশেই শুরু হয়েছে গণটিকা দান কর্মসূচি। প্রাথমিকভাবে সরকার দেশের ১৩ কোটির বেশি মানুষকে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল।
কবে আসবে দ্বিতীয় ডোজের টিকা
অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার চালান কবে দেশে আসবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ডোজ টিকা নির্ধারিত সময়ে নেওয়ার ব্যাপারে অনেক মানুষ শংকিত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু প্রথম ডোজের সাথে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান, দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে অন্য টিকার মিশ্র ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কতদিন পর্যন্ত নেওয়া যাবে দ্বিতীয় ডোজ?
এ ধরনের সমস্যা যে শুধু আমাদের দেশে তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশে প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার প্রায় দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কর্মসূচি চলছে। কিন্তু অনেকে না জেনেই বলছেন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে কিছু দেরি হলে প্রথম ডোজ টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে বা সুফল পাওয়া যাবেনা। কিন্তু বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকে বলছেন, তিন বা চার মাস পরও দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়া যাবে এবং সুফল অক্ষুন্ন থাকবে। কুয়েত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ইত্যাদি দেশে দ্বিতীয় ডোজ টিকা ৩/৪ চার মাস পরেও দেওয়া হয়েছে। তবে নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণ সুরক্ষা পেতে দ্বিতীয় ডোজটি প্রথম ডোজের ১২ সপ্তাহের ভেতরে অর্থাৎ ৩ মাসের মধ্যে নেয়ার জন্যে অনেকে বলছেন।
১৬ মে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (সিডিসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ডোজের টিকার আর এক সপ্তাহের মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ডোজের টিকা গ্রহণের ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থাৎ ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণ করা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দ্বিতীয় ডোজ ৮-১২ সপ্তাহ পর দিলেই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছে অক্সফোর্ডের টিকা। এবার নতুন ট্রায়াল-রিপোর্টে অক্সফোর্ডও জানিয়েছে, টিকার দ্বিতীয় ডোজ ১২ সপ্তাহ পর দিলেই বেশি সুরক্ষা দিচ্ছে। তাতে কার্যকারিতার হার মিলছে ৮১.৩%।
দুই ধরনের টিকার মিশ্রণ সম্ভব?
এভাবে দুই ধরনের টিকার মিশ্রণ সম্ভব কি না, তা বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখছেন। অর্থাৎ, প্রথম ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে সিনোফার্ম, স্পুটনিক-ভি বা অন্য কোন টিকা নিলে একই ধরনের সুফল পাওয়া যাবে কিনা বা কোনো ক্ষতি হতে পারে কিনা- এসব ব্যাপারে এখনও শতভাগ নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, একই ধরনের টিকায় সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়। কিন্তু সে সুযোগ যদি একেবারেই না থাকে, তাহলে মিশ্র টিকা, অর্থাৎ দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে অন্য টিকা নেওয়া যেতে পারে। এতে ক্ষতি হবে না, কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একটু ভিন্ন ধরনের হতে পারে।
বিবিসির এক খবরে জানানো হয়েছে, অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের অধ্যাপক ম্যাথিউ স্ন্যাপ বলছেন, এক ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও আরেক ডোজ ফাইজারের টিকা নিলে প্রাপ্তবয়স্কদের শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো খুব গুরুতর নয়। ব্রিটেন অবশ্য ডিসেম্বর থেকেই বুস্টার ডোজ ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছিল। যে সিদ্ধান্তের পিছনে অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, শুরুতে বেশি সংখ্যক লোককে অন্তত একটি করে ডোজ দিয়ে দেওয়া।
এ ধরনের মিশ্র টিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া যায় বলেও আরেক গবেষণায় জানা গেছে। দ্য কম-কভ নামে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলে দীর্ঘ মেয়াদে সুরক্ষা পাওয়া যায়। করোনার নতুন ধরন থেকে সুরক্ষা পেতে ও সরবরাহ বিঘ্নিত হলে ক্লিনিকগুলোকে দুই ধরনের দুই ডোজ টিকা দিতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার প্রথম সারির বিজ্ঞান পত্রিকা ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ৪-১২ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজের কথা বলা হলেও, ১২ সপ্তাহের পর প্রয়োগেই সবচেয়ে বেশি কাজে দিচ্ছে চ্যাডক্স ওয়ান বা এজেডডি১২২২। এই ভ্যাকসিনই কোভিশিল্ড নাম দিয়ে ভারতে উৎপাদন করছে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া। অক্সফোর্ড বলছে, প্রথম ডোজের পর ৯০ দিন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের সুরক্ষা বজায় থাকছে। ফলে দেরি করলেও দুশ্চিন্তা নেই।
বাংলাদেশের জন্য ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে প্রস্তুত ৫০ লক্ষ টিকা !
অনেকে মনে করছেন, দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলেই সরকার প্রথম ডোজ আপাতত বন্ধ করেছে । কারণ ২৭ লক্ষ লোক ইতিমধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছে। বাকি যারা আছে তাদের দিতে গেলে আনুমানিক ১২লক্ষ ডোজ ঘাটতি হবে। ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট ৫০ লক্ষ টিকা প্রস্তুত করে রেখেছে বাংলাদেশকে দেয়ার জন্য। কিন্তু ভারতের সরকারের অনুমতি না থাকায় তারা এখন দিতে পারছে না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলছেন, যদি এই টিকা প্রাপ্তির বিষয়টা ৩/৪মাস পিছিয়ে যায় - তাহলে বড় একটা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশ। এই তিন-চার মাসের গ্যাপ, ভারতের যে ভয়ানক অবস্থা সেটার ঢেউ যদি বাংলাদেশে আসে, আবার এক ডোজ পেল দ্বিতীয় ডোজ পাচ্ছে না তারা খুবই হতাশ হবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, টিকাদানে কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে, তবে এ বিষয়ে আশংকার কিছু নেই। চুক্তি অনুযায়ী ভারত থেকে টিকা আমদানি অব্যাহত রাখার চেষ্টা তো আছেই। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির চেষ্টা অব্যাহত আছে। যদি দুই মাসের মধ্যে টিকা চলে আসে তাহলেও দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। চীন ও রাশিয়া থেকেও টিকা আনার উদ্যোগ পাইপ লাইনে রয়েছে। সেই টিকা দিয়ে নতুন আরও অনেক ব্যক্তিকে টিকা দেওয়া যাবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, শুরুতেই বিকল্প উৎস থেকে টিকা নেয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল বাংলাদেশের।
সরকারের আপ্রাণ চেষ্টা
সরকার এখন আপ্রাণ চেষ্টা করছে সেরাম ছাড়াও অন্য কোম্পানির কাছ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ের। এরই মধ্যে দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি এবং চীনের সিনোফার্ম কোম্পানির ভ্যাকসিন জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নীতিগতভাবে স্পুটনিক-ভি ও সিনোফার্ম টিকা দেশে উৎপাদনের অনুমোদনও দিয়েছে। তবে বিভিন্ন আইন-কানুন, বিধিনিষেধ মেনে কবে নাগাদ সেই টিকা দেশে আসবে - সেটা এক বড় প্রশ্ন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫৮ লাখ ১৮ হাজারের ৪০০ মানুষ। তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৬জন। চীন অনুদান হিসাবে ৫ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে, যা প্রথমে ১ হাজার মানুষের ওপর প্রয়োগ করে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেফটি এবং অ্যাফিকেসি দেখার পর গণটিকাদান কার্যক্রমে সিনোফার্মের টিকা ব্যবহার করা হবে।
বাংলাদেশ চীন থেকে যে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্ম ভ্যাকসিন পেয়েছে সেগুলো কি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের সঙ্গে মিক্স এন্ড ম্যাচ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা যাবে? অর্থাৎ যারা প্রথম ডোজ কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তারা কি দ্বিতীয় ডোজে সিনোফার্ম ভ্যাকসিন নিতে পারবেন? উত্তর এখনো অজানা। ট্রায়াল ছাড়া এটা জানা যাবে না। সিনোফার্ম এবং কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন দুটো সম্পূর্ণ আলাদা প্লাটফর্মের ভ্যাকসিন। একটি কিল্ড ভ্যাকসিন, আরেকটি লাইভ অ্যাডিনোভাইরাস ভেক্টর ভ্যাকসিন। এদের কাজ এবং ইমিনোজেনিক রেসপন্স ভিন্ন। ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অবশ্য জানিয়েছেন, আগামী ২৫ মে থেকে সিনোফার্ম ভ্যাকসিন দিয়ে পুনরায় প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হবে ।
প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, সময়মত টিকা আসবেই
এ কথা ঠিক যে, টিকা পাওয়া জনগণের নাগরিক অধিকার এবং সারা দেশের টিকা পাওয়ার যোগ্য সবাইকে টিকা দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব। সারা বিশ্বেই এখন টিকার টানাটানি। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতই টাকা লাগুক না কেন, দেশে সময়মত টিকা আসবেই। বাংলাদেশ প্রথম থেকেই টিকা সংগ্রহ ও টিকা দেওয়ার কাজ বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন করে আসছিল। আশা করি এর শেষটাও তেমনি ভালোভাবেই হবে এবং কুটনৈতিক তৎপরতা বলছে অন্য কোন টিকা দেশে খুব শীঘ্রই চলে আসবে। তাছাড়া যদি দেখা যায় মিশ্র টিকায় কোন ক্ষতি নেই, তাহলে একটি বড় সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত মানুষের মধ্যে যে সংশয় তৈরি হয়েছে একটি গাইডলাইনের মাধ্যমে তা দূর করা।
আরও পড়ুন
জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বশেষ
জনপ্রিয়




















