ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:৫৬, ২০ মে ২০২১
আপডেট: ১২:৫১, ২১ মে ২০২১

সাবেক এমপি আউয়ালের অফিসে হয় সাহিনুদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা

রাজধানীতে জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে সাহিনুদ্দিনকে (৩৩)। আর এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা হয়েছিল সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের অফিসে।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। ঘটনার চার থেকে পাঁচ দিন আগে সাবেক এমপি আউয়ালের কলাবাগান অফিসে আসামি তাহের ও সুমন হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। মাঠ পর্যায়ে হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য সুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুমনের নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২ জন সক্রিয়ভাবে কিলিং মিশনে অংশ নেয়। তাদের সহযোগী হিসেবে আরও বেশ কয়েকজন ছিল।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে নিজ সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সাহিনুদ্দিনকে। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. আকলিমা রাজধানীর পল্লবী থানায় ২০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব সদর দফতর গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-৪ এর অভিযানে বুধবার রাতে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকা থেকে হাসান (১৯), বৃহস্পতিবার রাতে ভৈরব সদর এলাকা থেকে মূলহোতা মো. আউয়াল (৫০) এবং বৃহস্পতিবার ভোরে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে মো. জহিরুল ইসলাম বাবুকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়।

হত্যাকাণ্ড বর্ণনা দিয়ে র‍্যাবের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ১৫ মে সুমন, বাবুসহ হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন পরামর্শ করে। সে অনুযায়ী ১৬ মে বিকেলে তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। এরপর তাদের ডাকে সাহিনুদ্দীন সন্তানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

মীমাংসার কথা বলে আগে থেকেই সাহিনুদ্দীনকে ঘটনাস্থলে আসতে বলা হয়েছিল। প্রথমে সুমন, মনির, মানিক, হাসান, ইকবাল ও মুরাদসহ ১০-১২ জন ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাহিনুদ্দীনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ঘটনার শেষ পর্যায়ে শরীরের ওপরের অংশে মনির এবং হাঁটু ও হাত-পায়ে কুপিয়ে মানিক শাহীনের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

এ সময় বাবুসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ‘লুকআউট ম্যান’ হিসেবে নজরদারি করে। হত্যাকাণ্ডটি ৫-৭ মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হলে সাবেক এমপি আউয়ালের মোবাইলে ফোন করে সুমন বলে, ‘স্যার ফিনিশ।’ এরপর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতরা দেশের বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, সাবেক এমপি আউয়াল একজন আবাসন ও জমি ব্যবসায়ী। তার ছত্রচ্ছায়ায় সুমনের সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার করত। এজন্য তারা মাসে ১০-১২ হাজার টাকা মাসোয়ারা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কাজ অনুযায়ী অতিরিক্ত টাকা পেত। এই সন্ত্রাসী দলটি এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রিকশার টোকেন বাণিজ্য, মাদক, জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

শাহীন হত্যায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক।

সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা || সাবেক এমপি আউয়ালের অফিসে পরিকল্পনা

 

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়