ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ২৩ মে ২০২১
আপডেট: ১৯:৪৫, ২৩ মে ২০২১

করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেতে দেরি হবে ১৫ লাখ মানুষের

ভারতের করোনা টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচিতে প্রভাব পড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, দেশে করোনার টিকা যে পরিমাণ মজুদ আছে তাতে করে প্রথম ডোজ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শতভাগকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে না। ফলে প্রথম ডোজ নেয়া ১৫ লাখ মানুষের টিকার দ্বিতীয় ডোজ পেতে দেরি হতে পারে।

রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে অধিদফতরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেছেন, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ফর্মুলায় ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের মজুদ এই সপ্তাহ শেষে একেবারেই ফুরিয়ে যাবে। এর মধ্যে নতুন করে টিকা না পেলে ১৫ লাখের কাছাকাছি মানুষের দ্বিতীয় ডোজের টিকা পেতে বিলম্ব হবে।

তিনি বলেন, সরকার টিকা সংগ্রহের জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে টিকা আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা আশাবাদী যে খুব শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা পেতে চেষ্টা চলছে। টিকার ব্যবস্থা হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া টিকার প্রথম ডোজের কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু করতে পারব।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, এ পর্যন্ত দেশে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৬ জন। দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষায় আছে ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৭১৪ জন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের হাতে আছে আট লাখের কিছু বেশি টিকা। এ হিসাবে ১৫ লাখের বেশি লোক সময়মতো টিকা পাবে না।

এ পরিস্থিতিতে টিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কাছেও আবেদন জানিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এখনো দেশ দুটির কাছ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দেশে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত এ টিকা দেশে আনার বিষয়ে গত নভেম্বর বাংলাদেশ সরকার, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। অগ্রিম টাকাও পরিশোধ করে বাংলাদেশ।

চুক্তি অনুসারে ৩ কোটি ডোজের প্রতিমাসে ৫০ লাখ ডোজ করে বাংলাদেশের পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ টিকা এসেছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে সরবরাহ বন্ধ করে দেয় সেরাম। শেষ পর্যন্ত টিকা সংকটে বন্ধ হয়ে যায় দেশের টিকাদান কর্মসূচি।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়