ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩১, ২৩ মে ২০২১
আপডেট: ০৯:৩৪, ২৪ মে ২০২১

হাসপাতালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

পাঁচদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

রোববার (২৩ মে) বিকেল চারটার পরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন রোজিনা ইসলাম। সেখান থেকে সাড়ে ৬ টার দিকে তাঁকে সরাসরি নেওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাঁকে প্রথমে জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সাথে রয়েছেন রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু  ও মেয়ে আলভিনা ইসলাম (৯)।

রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু জানান, তিনি (রোজিনা) ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদরোগনসহ সাতটি রোগে ভুগছেন। তিনি থাইরয়েড, এসিডিটি সমস্যায় ভুগছেন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার পর বিশ্রামেরও সুযোগ পাননি। 

রোজিনা ইসলামের ছোট বোন সাবিনা পারভেজের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম আলো জানায়, ‘সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে রোজিনাকে স্কয়ার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।’ রোজিনা ইসলামের সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে।

হাসপাতালে রোজিনা ইসলামের সঙ্গে তাঁর স্বজন ও সহকর্মীরা রয়েছেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্বাস্থ্য বিভাগের মামলায় মামলায় জামিন পান অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন আদেশ মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার (২৩ মে) রোজিনা ইসলামের জামিনের আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকি বিল্লাহ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন বিষয়ে শুনানি হয়। 

একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে হয়রানি ও জেলে আটকে রাখার ঘটনায় তোলপাড় পুরো বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপীও আলোচিত বিষয়টি। 

গত সোমবার (১৭ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরদিন সকালে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। 

সোমবার রোজিনার সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা কথা বলতে না পারলেও মঙ্গলবার আদালত থেকে বের হওয়ার সময় রোজিনা ইসলাম বলেন, ‘আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, আমার সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে রিপোর্ট করায় আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’

রোজিনা ইসলামকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে সেই ১৭ মে রাতেই বিক্ষোভ করতে শুরু করেন সাংবাদিকরা। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনা অনভিপ্রেত, দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মত দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।  

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, ওই সাংবাদিক (রোজিনা ইসলাম) টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি সরিয়েছিলেন, যেগুলো প্রকাশ হলে দেশের ক্ষতি হতে পারত।  

রোজিনা ইসলামেকে গ্রেফতারের পরদিন ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তার অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করা  সাংবাদিকরা তা বর্জন করেন। 

রোজিনা ইসলামকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে অর্থাৎ অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি আইন। 

এদিকে ১৭ মে রোজিনা ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওযার পর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যেখানে দেখা যায়- এক নারী তার গলা চেপে ধরেছেন।  

রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা, তাকে গ্রেফতার ও তার জামিন হবে কি হবে না, সেটাই গত কয়েকদিন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়