নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১০:৪১, ২৮ মে ২০২১
ঢাবি ছাত্র হাফিজুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে নতুন মাদক ‘এলএসডি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর তদন্তে নেমে নতুন এক ভয়ঙ্কর মাদক ‘এলএসডি’ এর যোগসূত্র পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দেশে এই প্রথম ‘এলএসডি’ মাদক জব্দ করা হলো বলে দাবি করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ মে) সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান ডিবির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।
এই মাদক সংরক্ষণে রাখায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা মারা যাওয়া হাফিজুর রহমানেরই বন্ধু, তারাই হাফিজুরকে এই মাদক সেবন করিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) সেবন করেছিলেন এই তরুণ, আর তারপরই বিভ্রম ঘটায় নিজেই নিজেকে হত্যা করেন তিনি।
ঈদের পর দিন ১৫ মে জরুরি কাজের কথা বলে ঢাকার রওনা হয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের ইমাম মুজিবুর রহমানের ছেলে হাফিজুর। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ৮ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তার লাশ শনাক্ত করে পরিবার।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন অর রশিদ বলেছিলেন, ১৫ মে রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ডাব বিক্রেতার কাছ থেকে দা নিয়ে নিজের গলা নিজেই কাটতে থাকেন হাফিজুর। আর বলছিলেন- ‘আমাকে মাফ করে দাও।’ তখন হাফিজুর মারা গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি।
পরিচয় জানার পর এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ খুঁজতে নেমে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রকে গতকাল বুধবার (২৬ মে) দিনগত রাতে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) ছাত্র সাদমান সাকিব রুপল (২৫), আশাব ওয়াদুদ তুর্য (২২) এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) ছাত্র আদিব আশরাফ (২৩)। তাদের কাছে এলএসডি মাদক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৩ বন্ধুর কাছ থেকে ২০০ ব্লট এলএসডি পাওয়া গেছে।
মারা যাওয়া হাফিজুরের বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবি পুলিশ জানায়, হাফিজুর ঈদের পরদিন ঢাকায় ফেরার পর সন্ধ্যায় এক প্রতিবন্ধী রিক্সাচালকের সঙ্গে বাজে আচরণ করেছিলেন। এরপর তারা কার্জন হল এলাকায় নেশা করতে বসেন।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, এলএসডি গ্রহণের পর বন্ধুদের একজন হাফিজুরকে বলেন, ‘মামা তুমি কাজটা ভালো করনি।’ এরপর হাফিজুর কার্জন হলের মাঠ থেকে ছুটে বেরিয়ে যান। বন্ধুরা একবার থেকে ধরে এনেছিল। এরপর তিনি আবার বেরিয়ে যান। কয়েকজন রিকশাচালকের পা চেপে ধরে বলেন, ‘আমাকে মাফ করে দাও’।
‘এরপরই তিনি ডাবওয়ালার কাছ থেকে দা নিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করেন। আর হাফিজুরের অবস্থা দেখে ভয়ে কাউকে কিছু না বলে বন্ধুরা পালিয়ে যায়।’
এলএসডি এক ধরনের বিভ্রম তৈরি করে। এটা জিভের নিচে যেমন রাখা হয়, আবার ইনজেকশানের মাধ্যমেও নেওয়া হতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশ যে এলএসডি ব্লট উদ্ধার করেছে, তা ছোট একটি ডাকটিকিটের মতো, যা জিহ্বার নিচে রেখে সেবনের মতো।
হাফিজের বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র বহিষ্কৃত ছাত্র সাদমানকে গ্রেপ্তার করে। তিনি বর্তমানে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ পড়ছেন।
পুলিশ জানায়, ‘সাদমান জানিয়েছে- তিনি টেলিগ্রাম অ্যাপ এ যোগাযোগ করে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ করে নেদারল্যান্ডসের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পার্সেল সার্ভিসের মাধ্যমে ওই মাদকগুলো দেশে এনেছেন।’
‘প্রতি ব্লট ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। মাদক বিক্রির জন্য তাদের দুটি ফেইসবুক গ্রুপ রয়েছে। একটির নাম ‘আপনার আব্বা’। আরেকটি নাম ‘বেটার ব্রাউনি এন্ড বেয়ন্ড।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ছাত্র হাফিজুর রহমান ছিলেন একজন মুকাভিনয় শিল্পী। টিএসসিভিত্তিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন এই শিক্ষার্থী।
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক




















