ঢাকা, শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২৪, ৪ জুন ২০২১
আপডেট: ১৬:৩৮, ৪ জুন ২০২১

আজ দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় চা দিবস

চা-পাতা উত্তোলন করছেন চা-শিল্পীরা। ছবি : হাসানাত কামাল

চা-পাতা উত্তোলন করছেন চা-শিল্পীরা। ছবি : হাসানাত কামাল

বাংলাদেশে চায়ের ইতিহাস প্রায় পৌনে দুইশ বছরের। তবে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় চা দিবস পালিত হবে আজ ৪ জুন শুক্রবার। চা বোর্ডের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা, চায়ের দেশ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়ে দিবসটি নানা আয়োজনে পালন হচ্ছে। 

মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ শুক্রবার সকালে। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও চা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

গত বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ চা বোর্ড আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

প্রথমবারের মতো চা দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, চা–শিল্পের প্রসার’।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চা দিবসে শুক্রবার খরাসহিষ্ণু ও উন্নত ফলনের আরও দুটি ক্লোন অবমুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের চা–শিল্প অনেক এগিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ২১টি উচ্চফলনশীল জাতের ক্লোন অবমুক্ত করা হয়েছে। 

চা-সংশ্লিষ্টরা বলেন, চায়ের উন্নয়নটা শুরু হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। তিনি ১৯৫৭ সালের ৪ জুন থেকে ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম বাঙালি হিসেবে চা-বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তখন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টি রিসার্চ স্টেশনকে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করে উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্লোন চা গাছ উদ্ভাবনের নির্দেশনা দেন। 

সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলি চা বাগানে উচ্চফলনশীল জাতের চারা রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল টি রিসোর্ট মিউজিয়ামে চা-বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধুর চেয়ার-টেবিল এখনও সে সময়কার স্বাক্ষী হয়ে আছে। 

বঙ্গবন্ধু পিছিয়ে পড়া চা-শ্রমিকদের ভোটাধিকার দিয়েছিলেন। শ্রমিকদের বিনামূল্যে বাসস্থান, শিক্ষা, রেশন পাওয়াও নিশ্চিত করেন। তাদের কল্যাণ, অগ্রযাত্রা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা পরম্পরায় আজও স্বীকার করেন চা-শিল্পের কারিগররা। 

চা-পাতার নতুন কুঁড়ি গজিয়েছে। ছবি : আইনিউজডটনিউজ

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বঙ্গবন্ধু চা–শিল্পে অনেক অবদান রেখেছেন। চা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে এবং স্বাধীনতাযুদ্ধের পর চা–বাগান পুনর্বাসনে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছেন। উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের নির্দেশনা, চা–শিল্প ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে স্বাধীনতাযুদ্ধের পর মালিকানাবিহীন ও পরিত্যক্ত চা–বাগান পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেন। চা গবেষণা স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু। শ্রমিকদের বিনা মূল্যে বাসস্থান, শিক্ষা, রেশন পাওয়াও নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী পঞ্চগড় সফর করে চা চাষের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেখানে এখন চা চাষ করে দরিদ্র মানুষের জীবন বদলে গেছে।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব মো. জাফর উদ্দিন বলেন, দেশে চা পান বাড়ছে। এরপরও চা রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়া বিষয়ক একটি সুপারিশ অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, দেশের ১৬৭টি বাগানের ৬১ হাজার ৬৭৮ হেক্টর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে সমতল ভূমিতে চা চাষ বাড়ছে, যেখানে কৃষকেরাই জমির মালিক। গেল বছর ১ কোটি ৩ লাখ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে সেখানে। কর্মসংস্থান হয়েছে ২৫ হাজার নারী–পুরুষের। আগামী ২০২৫ সালে সাড়ে ১২ কোটি কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য দেশের ১৬৭টি চা-বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় রয়েছে সর্বোচ্চ ৯৩টি চা-বাগান।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়