নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১৯:৪৮, ৪ জুন ২০২১
সরকারের চিন্তার স্বচ্ছতা আছে কিন্তু বরাদ্দে মিল নেই: সিপিডি
আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জীবন ও জীবিকাকে প্রাধান্য নিয়ে সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ নির্মাণের যে কথা বলা হয়েছে, তার স্বচ্ছ কোনো রূপরেখা নেই বলে মনে করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তারা বলছে, করোনা মহামারির এই সময়ে কোভিড নিয়ে সরকারের চিন্তার স্বচ্ছতা আছে, কিন্তু বরাদ্দের মিল নেই।
একই সঙ্গে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির অর্থসংস্থান কোথা থেকে আসবে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বেসরকারি সিপিডি। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে বাজেট ঘাটতি পূরণের বিষয়টি ইতিবাচক দিক বলছে তারা।
প্রস্তাবিত নতুন বাজেট পর্যালোচনায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থাটি। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি তাদের পর্যালোচনা তুলে ধরে। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটটি অনুমিতির জায়গা থেকে তৈরি করা হয়েছে। এখানে রাজস্ব আদায়ে কাঠামোগত দুর্বলতা আছে। করোনাকালে সামাজিক নিরাপত্তায় কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ বাড়েনি। বরং যেটা বেড়েছে সেটা সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের কারণে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ বাড়েনি। করোনাকালে নতুন করে যারা কর্মহীন হয়েছেন বা হচ্ছেন, বাজেটে তাদের বিষয়ে কোনো বরাদ্দের উল্লেখ নেই।’
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বাজেটে আয়বৈষম্য, ভোগবৈষম্য, সংকটবৈষম্য দূর করার দর্শন আছে। কিন্তু এই বৈষম্য দূর করার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি এতে। স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থানে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়ার কথা, তা দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের জন্য বাজেটে সরকারের আর একটু সচেতন হওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করে সিপিডি।
সিডিপির সম্মানীয় ফেলো বলেন, ‘করোনার এই সময়ে সরকারের চিন্তার স্বচ্ছতা আছে। কিন্তু বরাদ্দের মিল নেই।’
মূল প্রবন্ধে ফাহমিদা খাতুন বলেন, করোনা মহামারির কারণে দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অনেক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু সেটা পুষিয়ে নেয়ার জন্য মধ্যমেয়াদি নীতিমালা দরকার। বাজেটে তেমন কিছু করা হয়নি।
ফাহমিদা খাতুন
সামষ্টিক অর্থনীতির কাঠামোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই উল্লেখ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বলা হচ্ছে জীবন ও জীবিকার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাব। কিন্তু এখানে কী ধরনের সংস্কার দরকার, কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দরকার এবং কীভাবে করব, সেটার কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ রূপরেখা বাজেটে নেই।’
সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ আরও বাড়ানো উচিত ছিল বলে মনে করে সিপিডি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘করোনায় নতুন অনেক দরিদ্র্ হয়েছে। এ বিষয়ে স্বচ্ছ তালিকা দরকার। শহরে ও গ্রামের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় কারা সুবিধা পাবে সে বিষয়ে আলাদা তালিকা করতে হবে।’
ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘করোনার একদিকে সবাইকে টিকাদান, অন্যদিকে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে আনার জন্য আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর ধরে আমরা কী ধরনের কাজ করব, তার একটি মধ্যমেয়াদি পরিষ্কার নীতিমালা থাকা দরকার ছিল। ৫০তম বাজেটে বলা হলো- জীবন ও জীবিকার প্রাধিকার দিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কিন্তু সেটাকে বাস্তবায়নের কোনো সঠিক ও স্বচ্ছ রূপরেখা দেখতে পাচ্ছি না।’
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক





















