নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২৩:৪৫, ৫ জুন ২০২১
দেশে করোনার নতুন হটস্পট সীমান্তবর্তী জেলাগুলো
ফাইল ছবি
করোনাভাইরাসের প্রকোপ কিছুটা কমার পর আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে লাগোয়া সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলা করোনার নতুন হটস্পট হয়ে উঠেছে। কিছু কিছু এলাকায় করোনা শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কারণে করোনা দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কয়েক দিন ধরে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পরীক্ষা অনুপাতে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার কয়েক দিন আগেই ৭০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়।
বাগেরহাটের মংলায়ও গত কয়েক দিন ধরে সংক্রমণের শতকরা হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে। বিভাগীয় শহর খুলনায়ও সংক্রমণ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে।
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে. এম হুমায়ুন কবির বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘পুরো বাগেরহাট জেলার পরিস্থিতি নাজুক না হলেও মংলা উপজেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। মংলা উপজেলায় সংক্রমণ ২৬ তারিখ থেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের জেলায় এখন রোগী চিকিৎসাধীন আছে ২৬৪ জন। এর মধ্যে ১৬৪ জন মংলা উপজেলায়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, জেলায় নমুনা পরীক্ষায় শতকরা ৪০ ভাগ এখনো পজেটিভ আসছে৷ আর হাসপাতালের বেড যত বাড়ানো হয় ততই ভরে যায়৷ প্রথমে করোনা রোগীদের জন্য ২০ বেড, তারপর ৩০ বেড এবং এখন ৫০ বেড করা হয়েছে৷ তাও ভরে গেছে৷ তিনি জানান, পরিস্থিতি সামলাতে তারা তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন৷ লকডাউনেও মসজিদে লোক সমাগম কমানো যচ্ছে না৷ আমের মৌসুম হওয়ায় আম ব্যবসায়ীরা লকডাউন মানছেন না৷ সীমান্তে অবৈধ যাতায়াত বন্ধ করা যাচ্ছে না৷
এদিকে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সাতক্ষীরায় সরকারি হাসপাতালে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না।
চিকিৎসক এবং গবেষকরা মনে করেন, যেসব জেলায় রোগী শনাক্তের হার বেশি সেখানে হয়তো ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এর জন্য দায়ী হতে পারে।
গত ১৬ মে'র পর থেকে ঢাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং খুলনা থেকে ৫৪টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করেছে সংক্রামক রোগ বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর। সে নমুনাগুলোর মধ্যে ৮০ শতাংশই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পেয়েছে আইইডিসিআর।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন৷ তবে বিএসএমইউ'র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এখানো দ্বিতীয় ঢেউই তো শেষ হয়নি, চলছে৷ সংক্রমণ এখনো শতকরা ১১ ভাগের বেশি৷ পাঁচ ভাগের নিচে নামার পর আবার বাড়লে তাকে আমরা নতুন ঢেউ বলতে পারি৷ এখনো তো আবার মৃত্যু বাড়ছে৷’
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক




















