ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ২ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৫:২১, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১৬:১২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কেটজালকোয়াটলাস : আকাশে উড়তে পারা বিশালদেহী এক সরীসৃপ

হেলাল আহমেদ : অনেক বছর আগে প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ 'কেটজালকোয়াটল' নামের এক সর্প দেবতার উপাসনা করতো। অ্যাজটেকবাসীদের বিশ্বাস ছিলো 'কেটজালকোয়াটল' নামের এই সর্প দেবতা আকাশে উড়তে পারতেন এবং তিনিই ছিলেন বাতাসের নিয়ন্ত্রক। কিন্তু আজকের লেখাটি অ্যাজটেকদের সর্প দেবতাকে নিয়ে নয়। বরং অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষদের কল্পনায় কিভাবে উড়ন্ত এক সরীসৃপ আসলো তা নিয়ে। তাঁদের এই সর্প দেবতার বিশ্বাসের পেছনে ছিলো আরেকটি গল্প। আর সেই গল্পে ছিলো এক সময় পৃথিবীর আকাশ দাপিয়ে বেড়ানো এক সরীসৃপ প্রাণী।

[caption id="attachment_16913" align="aligncenter" width="462"] অ্যাজটেক সভ্যতা[/caption]

ধারণা করা হয় অ্যাজটেক সভ্যতার অনেক বছর পূর্বে আকাশে উড়ে বেড়াতো এক বিশালদেহী সরীসৃপ প্রাণী। যারা প্রায় ৭শ' বছর পৃথিবীর আকাশ রাজ্যের অধিপতি ছিলো। এদের পাখার দৈর্ঘ্য ছিলো ৫০ ফুট। আর ৫০ ফুট পাখা দিয়েই বিশাল দেহ নিয়ে এরা উড়ে বেড়াতো আকাশ জুড়ে। পৃথিবীর ইতিহাসে এরাই ছিলো সর্ববৃহৎ উড়ন্ত প্রাণী। পরবর্তীতে অ্যাজটেক সভ্যতার সর্প দেবতার নামানুসারে এদের নাম রাখা হয় 'কেটজালকোয়াটলাস'। বলা হয়ে থাকে মূলত এই বিশালদেহী প্রাণীটিকে মাথায় রেখেই অ্যাজটেকবাসী তাঁদের সর্প দেবতার রূপ দিয়েছিলো।

মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্ত বরাবর বিস্তীর্ণ এলাকায় আকাশে উড়ে বেড়ানো এই সরীসৃপ প্রাণীর প্রচুর পরিমান ফসিল পাওয়া গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই বিশাল দেহ নিয়ে এই প্রাণী কিভাবে আকাশে উড়তে পারতো?

[caption id="attachment_16914" align="aligncenter" width="800"] শিল্পীদের আঁকা এই 'কেটজালকোয়াটলাস'[/caption]

এই উড়তে পারার রহস্যটি লুকিয়ে আছে কেটজালকোয়াটলাসদের হাড়ের গঠনে। মূলত সরীসৃপ প্রাণি হলেও এদের হাড়ের গঠন ছিলো আধুনিক পাখিদের মতোই ফাঁপা। ফলে আকারে বিশালদেহী হলেই এদের ওজন ছিলো ১৫০-২০০ কেজির মধ্যেই। যার কারণে দীর্ঘ পাখা নিয়ে এরা উড়তে পারতো অনায়াসেই।

উড়ার ক্ষেত্রে কেটজালকোয়াটলাস নামের এই সরীসৃপদের ধৈর্য এবং গতি ছিলো অবাক করার মতো। বিজ্ঞানীদের মতে এরা একটানা আকাশে উড়ে পাড়ি দিতে পারতো ১০ হাজার মাইল পথ! যা পৃথিবীর পরিধির প্রায় অর্ধেকের সমান।

এখন বলা হতে পারে এই বিশালদেহী সরীসৃপের খাবার তালিকায় কী ছিলো? আসলে এরা মৃত ডাইনাসরদের মাংস খেয়ে জীবনযাপন করতো। অন্যদিকে ডাইনাসরদের খাবার তালিকায় ছিলো এই প্রাণীও।

'কেটজালকোয়াটলাস' মূলত 'টেরোসর' প্রজাতির উত্তরসূরী ছিলো। এদের পূর্বসূরীরা ছিলো 'টেরোসর'। পৃথিবীর ইতিহাসে এই 'টেরোসর'রাই প্রথম প্রাণী যারা নিজেদের দেহকে বাতাসে ভাসাতে সক্ষম হয়েছিলো। উড়তে সক্ষম থাকায় 'টেরোসর'রা একদিকে যেমন নিজেদেরকে ভূমিদানব ডাইনাসর থেকে বাঁচাতে পারতো তেমনি অন্যদিকে পোকামাকড় ধরতেও সুবিধা ছিলো। এই 'টেরোসর'রা আবার বিভিন্ন প্রজাতিতে বিভক্ত ছিলো। যেকারণে সারা পৃথিবী জুড়ে এদের রাজত্ব বিস্তৃত ছিলো। চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র এদের ফসিল পাওয়া যায়।

[caption id="attachment_16917" align="aligncenter" width="1500"] 'কেটজালকোয়াটলাস'দের পূর্বসূরী 'টেরোসর' প্রজাতি। যারা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম নিজেদেরকে বাতাসে ভাসাতে সক্ষম হয়েছিলো।[/caption]

পৃথিবীর আকাশ পথ ১৫ কোটি বছর ছিলো এই উড়তে পারা 'টেরোসর' প্রজাতি সরীসৃপ প্রাণীদের আধিপত্যে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে উল্কাপাতের কারণে বিলুপ্তি ঘটে ডাইনাসরদের। আর সেই সাথে হারিয়ে যায় আকাশ রাজ্যের বিশালদেহী এই অধিপতিরাও।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়