ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ২৭ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৫:৩১, ২৭ আগস্ট ২০২১

ইভ্যালির ‘সম্পদের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেনা’, বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ?

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে‌নি। তবে যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে ইভ্যালির অডিট চলছে। সেই অডিটের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেলে এই বিনিয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কথা বলবে যমুনা। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক জরুরি ঘোষণায় এমনটাই জানিয়েছেন যমুনা গ্রুপ পরিচালক (মার্কেটিং, সেলস অ্যান্ড অপারেশনস) ড. মোহাম্মদ আলমগীর আলম।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলামকে উদ্ধৃত করে 'ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করবে না যমুনা গ্রুপ' শিরোনামে সংবাদ ছড়িয়ে পরে। 

এরপরেই এক জরুরি ঘোষণায় যমুনা জানায়, ইভ্যালিতে যমুনা গ্রুপের বিনিয়োগের আগে ইভ্যালির গ্রাহকদের ও পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা বা দায় দেনা নির্ধারণের লক্ষ্যে যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে অডিট চলছে। যেহেতু এখনো অডিট কার্যক্রম শেষ হয়নি ও অডিটের চূড়ান্ত রিপোর্ট যমুনা গ্রুপের হাতে আসেনি তাই ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে যমুনা গ্রুপ এখনো চূড়ান্ত কোনো অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট দিতে প্রস্তুত নয়। অডিট শেষ হলে যথাসময়ে যমুনা গ্রুপ তার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও বিস্তারিত কর্মপদ্ধতি মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করবে।

এ বিষয়ে জান‌তে চাই‌লে মনিকা ইসলাম গণমাধ্যমকে ব‌লেন, এমন খবর আ‌মিও দে‌খেছি। কিন্তু তারা কেন লি‌খে‌ছে আ‌মি জা‌নি না। ত‌বে এখন পর্যন্ত আমা‌দের সিদ্ধান্ত আ‌গের মতোই আ‌ছে। একটা প্র‌তিষ্ঠা‌নে বি‌নি‌য়োগ করার আ‌গে তা যাচাই-বাছাই কর‌তে হ‌য়। এজন্য অ‌ডিট করা হ‌চ্ছে, চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, তখন আপনাদের জানাব।

গত ২৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল।

ই-কমার্স প্লাটফর্ম ইভ্যালি ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে। লোভনীয় ডিসকাউন্ট কিংবা ক্যাশব্যাকের অফার প্রসঙ্গে ইভ্যালির নাম সব জায়গায়। স্বল্প সময়ে অনলাইন ক্রেতার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তি ও সমালোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে।

ইভ্যালির ‘সম্পদের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেনা’ বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে উঠে আসে ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম নিয়েছে ২১৪ কোটি টাকা, আর মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়েছে ১৯০ কোটি টাকার। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৪ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা। কিন্তু সম্পদ আছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকার।

এছাড়া গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত ইভ্যালির নেওয়া অগ্রিম ৩৩৯ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ টাকা আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৯ আগস্ট ও গতকাল বৃহস্পতিবার যে তথ্য আছে, সে অনুযায়ী ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চলতি দায় ৫৪৩ কোটি টাকা। আর ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ গ্রাহকের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দেনা ৩১১ কোটি টাকা।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়