ঢাকা, রোববার   ১৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৫, ১৩ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৬:৫০, ১৩ জানুয়ারি ২০২২

বাউলের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার ‘সেলিম ফকির’ (ভিডিও)

মো. হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির

মো. হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির

বাউলের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতেন দুর্ধর্ষ সিরিয়াল কিলার ‘সেলিম ফকির’। পরিচয় দিতে বাউল ফকির হিসেবে।  ‘ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল’ গানের মডেলও তিনি। বাউল ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো সিরিয়াল কিলারের নাম মো. হেলাল হোসেন।

তিনি মো. হেলাল হোসেন ওরফে সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিম ওরফে খুনি হেলাল নামে। অবশেষে র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। 

স্থানীয়দের তথ্য ধরে ছয় মাস চেষ্টার পর র‍্যাবের গোয়েন্দারা তার অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন। বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে হেলাল হোসেন ওরফে খুনি হেলাল ওরফে সেলিম ফকিরকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

র‍্যাব জানিয়েছে, হেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায় তার সাজাও দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও দুটি ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বিস্তারিত ভিডিওতে... 

তিনি বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন হেলাল হোসেন। তার বাড়ি বগুড়ায়। এক সময় মুদিখানার দোকান চালাতেন তিনি। পরে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মবেশে বিভিন্ন মাজার ও রেলওয়ে স্টেশনে থাকা শুরু করেন। কেউ যাতে তার চেহারা চিনতে না পারেন, সেজন্য লম্বা দাঁড়ি ও চুল রাখেন। একটি বাউল গানের শুটিংয়ের সময় তাকে মডেল হিসেবে অভিনয় করানো হয়। সেই গানের ভিডিও দেখে স্থানীয়রা শনাক্ত করেন বাউল ছদ্মবেশী সেলিম ফকির আসলে একজন খুনি। তিনিই খুনি হেলাল।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ছয় মাস আগে এক ব্যক্তি ইউটিউবে প্রচারিত একটি গানের বাউল মডেল সম্পর্কে র‍্যাবের কাছে তথ্য দেন। তখন জানানো হয়, এই বাউল মডেল সম্ভবত বগুড়ার বিদ্যুৎ হত্যা মামলার আসামি। অভিযোগ পেয়ে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‍্যাব।

খন্দকার আল মঈন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল হোসেন আমাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, বগুড়ায় ২০০১ সালের বিদ্যুৎ হত্যাকাণ্ডের চার আসামির মধ্যে সে একজন। ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। বগুড়ায় ১৯৯৭ সালে সংঘটিত আরও একটি হত্যা মামলারও আসামি তিনি। একইসঙ্গে ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলারও আসামি তিনি। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি মামলা এবং চুরির একটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‍্যাব বলছে, হত্যা মামলায় সাজা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের জন্য বাউলের বেশ বেছে নেয় হেলাল। এভাবেই দেশের বিভিন্ন স্টেশনে গত সাত বছর আত্মগোপনে ছিলেন হেলাল। বাউলের বেশ ধরে গান গেয়ে জীবিকাও নির্বাহ করেছেন তিনি।  

র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, ১৯৯৭ সালে ২১ বছর বয়সে বিশু হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে অপরাধ জগতে পা রাখেন হেলাল হোসেন। পরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মারামারিতে যোগ দেন তিনি। এর ফলে তিনি এলাকায় দুর্ধর্ষ হেলাল নামে পরিচিতি পায়। ২০০০ সালে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় তার বাম হাত প্যারালাইজড হয়ে যায়, যার ফলে তার নাম হয়ে যায় ‘হাত লুলা হেলাল’।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে একটি চুরির মামলায় সে জেলে যায়। ২০১১ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। চুরির মামলায় জামিনে বের হওয়ার সময়ই বিদ্যুৎ হত্যা মামলার রায়ে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। এই রায়ের পর তিনি পালিয়ে যান এবং ফেরারি জীবন শুরু করেন। মূলত ২০১৫ সাল থেকে তার এই ফেরারি জীবন শুরু হয়।

ফেরারি জীবনে প্রথমে হেলাল বগুড়া থেকে ট্রেনে ঢাকায় আসেন। সেখান থেকে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ-আমানত বাজারে কিছু দিন ছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে যান সিলেটের হজরত শাহজালালের মাজারে। সেখানে বেশ কিছু দিন ছিলেন। তারপর বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ফেরারি জীবন শুরু হয় তার। শাহজালালের মাজার থেকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ স্টেশনে যান। বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ঘুরে বাউল গান গাইতেন তিনি। এভাবে গান গেয়ে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও 

ওমিক্রন এক চেনা উদ্বেগ, করোনাভাইরাসের `ভয়াবহ` ভ্যারিয়েন্ট

ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের পাথারিয়া পাহাড়

হাইল হাওরের বাইক্কাবিলে পর্যটক আর পদ্মটুনার ভিডিও ভাইরাল

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়