ঢাকা, শনিবার   ০৯ মে ২০২৬,   বৈশাখ ২৫ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৩, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৩:৪৫, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২

১০ বছরেও কূল-কিনারা হলো না সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি

আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার দশ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসা থেকে এই দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সেদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে খুনিদের। কিন্তু তারপর একে একে কেটে গেছে দশ বছর। এখনো এই হত্যা মামলার কূল-কিনারা করা সম্ভব হয়নি।

১০ বছরে আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়েছে মোট ৮৫ বার। বাসার ভেতর চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের বিচার তো দূরের কথা, রহস্যের জটই খোলা যায়নি এত বছরে। তারপরও র‌্যাব বলছে, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।  

সাগর সরুওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন মেহেরুন নাহার রুনা। তারা খুন হওয়ার পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন- শাবিপ্রবির সংকট নিরসনে সিলেটে শিক্ষামন্ত্রী, বিকেলে বৈঠক

প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শেরেবাংলা নগর থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে ডিবি রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলায় আটজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, মিন্টু, কামরুল হাসান, বকুল মিয়া, রফিকুল ইসলাম ও আবু সাঈদ কারাগারে। পলাশ রুদ্র পাল ও তানভীর রহমান নামে দুজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর নয় বছর ১০ মাস গড়ালেও র‌্যাব এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি আদালতে। 

আরও পড়ুন- আট ধাপে ভোট পড়েছে ৭২.২ শতাংশ, সহিংসতায় প্রাণহানি ১০০

সাগর সারওয়ারের মা সালেহা মুনির আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘মামলাটি কোনো প্রভাবশালী মহলের ইশারায় সিন্দুকবন্দি হয়ে আছে। তাই হত্যাকাণ্ডের দশ বছরেও এর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।’

মেয়ে ও জামাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার না দেখতে পারার আক্ষেপ নিয়েই গত ৫ জানুয়ারি সকালে মারা যান মা নুরুন নাহার মির্জা (৬৪)। সেই প্রসঙ্গ টেনে সালেহা মুনির বলেন, ‘রুনির মা কিছু দিন আগে মারা গেছেন। তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেননি। আমিও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে পারবো কি না, তা নিয়ে সন্দিহান।’

মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, ‘বোনের হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে পারেননি আমার মা। ১০ বছর ধরে এ হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। আর কত বছর লাগবে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে আল্লাহই ভালো জানেন।’

এদিকে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, যে কোনো মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে করে র‌্যাব। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৬০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে যেসব তথ্য উপাত্ত ও আলামত পরীক্ষা নিরীক্ষা করা দরকার র‌্যাব তা করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা যাবে। র‌্যাব সবসময় চেষ্টা করে তদন্তে যেন নিরপরাধ কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হয়।

আইনিউজ/এসডিপি 

আইনিউজ ভিডিও 

কৃষক ও ফিঙে পাখির বন্ধুত্ব (ভিডিও)

পোষ মানাতে হাতির বাচ্চাকে নির্মম প্রশিক্ষণ 

হাতির আক্রমণে হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু 

Green Tea
সর্বশেষ