Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২২ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ১৬ জুন ২০২২

অতিরিক্ত প্লাস্টিক ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছে নারীর গর্ভধারণ ক্ষমতা

কিছু কিনে আনলে সেটাও প্লাস্টিকে, ভেতরে থাকে আরও প্লাস্টিক, এমনকি ইদানিং খাবারেও মিশছে প্লাস্টিক।

কিছু কিনে আনলে সেটাও প্লাস্টিকে, ভেতরে থাকে আরও প্লাস্টিক, এমনকি ইদানিং খাবারেও মিশছে প্লাস্টিক।

প্লাস্টিকের মধ্যে বিসফেনল-এ নামক এক উপাদান রয়েছে। যা ২০১২ সালে আবিষ্কার হয়। এ রাসায়নিক শরীরে প্রবেশের ফলে মায়েদের সন্তান ধারণের ক্ষমতা নষ্ট হয়। এর ফলে তাদের হরমোনাল সমস্যাগুলো বেড়ে যাচ্ছে। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়াতে নানা কৌশল ব্যবহার করছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২২ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজধানীতে মাথাপিছু ২৩ কেজি প্লাস্টিকের ব্যবহার হয়, যা ২০০৫ সালে ছিল ৯ কেজি। ঢাকার বাইরে ২০০৫ সালে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার করা হতো ৩ কেজি, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কেজিতে। দেশে সারা বছর যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তার ১০ শতাংশ প্লাস্টিক পণ্য থেকে আসে। প্লাস্টিক বর্জ্যের ৪৮ শতাংশ মাটিতে পড়ে আর ৩৭ শতাংশ পুনরায় ব্যবহৃত হয়; ১২ শতাংশ পড়ে খাল-নদীতে এবং ৩ শতাংশ নালায় গিয়ে মেশে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২২ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ ও শব্দদূষণ হ্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মনিটরিং এবং এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়ছে। বায়ুদূষণ রোধে নির্দেশিকা প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পোড়ানো ইটের পরিবর্তে পরিবেশ বান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্যে ইতোমধ্যে ১০ বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে ৩ বছর মেয়াদী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পাহাড়, টিলা কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ই-বর্জ্য ও চিকিৎসা বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা করা হয়েছে। তরল বর্জ্য নির্গমণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে তরল বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা স্থাপন ও জিরো ডিসচার্জ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধ্য করা হচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, পরিবেশের মান উন্নয়ন ও বৃক্ষরোপণে সফলতা লাভ করতে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত  বলেন, পলিথিন বা প্লাস্টিক  কয়েক শ বছর পর্যন্ত থাকে। এর মধ্যে বিষাক্ত সিসাসহ বিভিন্ন দূষিত উপাদান থাকে। এখন নতুন করে স্লোগান দেয়া হচ্ছে ফুড গ্রেড প্লাস্টিক। আমরা তো আর পরীক্ষা করে দেখছি না এটা ফুড গ্রেড কি না। যা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য ভয়াবহ দুর্যোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। 

তিনি বলেন, ইটভাটা বন্ধের সময় এসেছে। এর চেয়ে বিষাক্ত আর কিছু নেই।  শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র ইটভাটার দূষণ ছড়াচ্ছে। এতে করে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডক্টর আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, গ্লোবাল সেন্টার অন এডাপটেশন এর বিশিষ্ট ফিলো জনাব আবুল কালাম আজাদ, এবং পিকেএসএফ এর চেয়ারম্যান ডক্টর কাজী খলিকুজ্জামান আহমদ প্রমুখ।

আইনিউজ/এসডি

আইনিউজ ইউটিউব চ্যানেলে ‍দেখুন আকর্ষণীয় সব ভিডিও

কৃষক ও ফিঙে পাখির বন্ধুত্ব (ভিডিও)

বাজারে নদীর বিশাল চিতল মাছ

লাউয়াছড়ায় ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিসীমা

নয় বছরের মেয়েটি কিভাবে নেভায় একের পর এক আগুন?

বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ স্থাপনা-দোকানপাট

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়