ঢাকা, শুক্রবার   ২২ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৬ ১৪২৮

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫:৫৯, ১৯ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৮:০১, ১৯ আগস্ট ২০২১

নবীগঞ্জে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা

আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন চাষীরা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে শ্রাবণের ধারা বইতে শুরু করেছে। আষাঢ়-শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টিতে মাঠের জমিতে জমতে শুরু করেছে পানি। প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন নবীগঞ্জের চাষীরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। তবুও থেমে নেই আমান ধান রোপনের প্রস্তুতি। তবে এই মৌসুমে ধানে লাভ কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন উপজেলার কৃষকরা।

আমনের আবাদের জন্য প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাষীরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জমিতে আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলেও, বৃষ্টি অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়েছিল। আবার গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে বাড়তি খরচ করে জমি তৈরি করেছিলেন অনেক কৃষক। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শ্রাবণের আকাশে ঘটেছে মেঘের ঘনঘটা। গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শ্রাবণের ধারা। জমিতে বেঁধেছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানি। আর এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে চাষিরা।

নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের চুনু মিয়া বলেন, এবার ২০ কিয়ার জমিতে আমন ধান রোপন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে আকাশের বৃষ্টি হওয়ার কারণে স্বস্তি নেমে এসেছে কৃষকদের মনে। কারণ কয়েকদিন আগের খরার কারণে আমরা জমি তৈরি করতে পারছিলাম না। আর আমন ধানে সেচ দিয়ে ধান চাষ করলে কৃষকরা তেমন একটা লাভবান হবেন না। কারণ এই ধানের ফলন তেমন একটা হয় না। আমন ধান রোপণ করতে দেরি হওয়ার কারণে সেচ দিয়ে জমি চাষ করা শুরু করি। কিন্তু সম্প্রতি আষাঢ়ের বৃষ্টির কারণে আর সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হচ্ছে না। 

নবীগঞ্জ উপজেলার খসবা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন আমরা আমন ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছি কিন্তু মজুরের দাম অনেক বেশি। এমনিতে বৃষ্টির কারণে আমন ধান রোপন অনেকটা দেরি হয়ে গেছে তার উপর আবার শ্রমিকদের সংকট। যে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি দিতে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু উপায় নেই জমিতো আর ফেলে রাখা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই ধান রোপণ করছি।

নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পশ্চিম ইউনিয়ন এর শ্রমিক রাকেশ দাশের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সব সময় বৃষ্টি হচ্ছে আর এই বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্ট করে আমরা ধান রোপন করছি। আর বর্তমানে বাজারে সবকিছুর দাম বেশি তাই মজুরি বেশি না নিলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কেমন করে। তাই আমরাও আমাদের কাজের মজুরি বৃদ্ধি করেছি।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এ. কে. এম. মাকসুদুল  আলম  জানান, “নবীগঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের রোপণে লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার  ৯০০ হেক্টর জমি। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) পর্যন্ত  ১০ হাজার ৫ হেক্টর জমি আমন ধানের রোপণ হয়েছে।” আশা করছি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকেও বেশি আবাদ হবে।

আইনিউজ/অঞ্জন রায়/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়