ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৩, ২৯ মে ২০২১
আপডেট: ২২:৫৯, ২৯ মে ২০২১

প্রবল ভূমিকম্পের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারে ৫ দিন সতর্ক থাকার পরামর্শ

সিলেটে একদিনে পর পর পাঁচবার অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণত বড় কোনো ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন দফায় দফায় মৃদু কম্পন হতে পারে। তাই এ বিষয়ে এখন থেকেই সতর্ক থাকতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (২৯ মে) দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক জহির বিন আলম আইনিউজকে বলেন, সিলেট ও ঢাকার আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে আজকের ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ভারতের আসাম। সিলেটের নিচে ৪.১ দশমিক মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়নি। বড় ধরণের বিপদ এড়াতে আমাদের বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিদ্যুৎ-গ্যাস ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে

অধ্যাপক জহির বলেন, আগামী চার থেকে পাঁচদিন বিদ্যুৎ অফিস, গ্যাস অফিস এবং ফায়ার সার্ভিসকে সর্তক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। দিনের বেলা বিম অথবা কলামের পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। বিদ্যুৎ লাইন কম ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া গ্যাসের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করে বন্ধ করে দিতে হবে।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পে বেশিরভাগই বিদ্যুৎ বা গ্যাস লাইনে আগুন লেগে আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অধ্যাপক জহির আরও বলেন, নতুন যেসব দালানকোঠা হয়েছে সেগুলো ‘স্ট্রাকচারালার ডিজাইন’ মেনে তৈরি করা হয়েছে। তাই আশা করছি ৬ বা সাড়ে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে সেগুলোর কোনো ক্ষতি হবে না।

লিফট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

এই কয়েকদিন লিফট ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে দালানকোঠা হালকা বাঁকা হয়ে গেলে লিফটের দরজা খুলবে না। ফলে ভিতরে কেউ আহত থাকলে তিনি অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবেন। সেজন্য লিফটে কম উঠবেন।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ দশকেই সিলেট অঞ্চলে প্রবলমাত্রার ভূমিকম্প হতে পারে। ভৌগলিক অবস্থান ও অতীত ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করে তারা এমনটা আশঙ্কা করছেন।

সক্রিয় ভূ-কম্পন এলাকা ‘সিলেট অঞ্চল’

ফরাসি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম ১৯৯৮-এর জরিপ অনুযায়ী ‘সিলেট অঞ্চল’ ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে সক্রিয় ভূ-কম্পন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত সংঘটিত ১৮৩৩, ১৮৮৫, ১৮৯৭, ১৯০৫, ১৯৩০, ১৯৩৪, ১৯৪৭ ও ১৯৫০ সালের বড় ধরনের আটটি ভূমি কম্পনের মধ্যে দু’টিরই উৎপত্তিস্থল ছিল (এপি সেন্টার) সিলেটের জৈন্তা পাহাড়ে। একই উৎপত্তিস্থল থেকে ঘটে যাওয়া দ্বিতীয় ভূমিকম্পের ফলে সমগ্র সিলেট অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূকম্পনের ইতিহাসে এটি ‘দি গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক’ নামে পরিচিত।

১৯৫০ সালে আসামে বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণে সিলেট অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল। এই ভূমিকম্পটি ‘তিব্বত’ নামে ইতিহাসে পরিচিত রয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৮ এর উপরে।

১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প

১৮৯৭ সালের ১২ জুন আসামে ভয়াবহ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। সেটা ছিল ৮.১ রিখটার স্কেল। প্রায় ১ হাজার ৫৪২ জন মারা যায়। যার মধ্যে দুজন বিদেশিও ছিলেন। তখন ভূমিকম্পের আকার অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা কম হলেও সম্পত্তির ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ছিল ব্যাপক।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ঢাকা থেকে কম-বেশি ২৫০ কিলোমিটার, সিলেট থেকে ১৫০ কিলোমিটার এবং ভারত-বাংলা বর্ডার থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং আজকের বাংলাদেশের সীমানায় থাকা ইটের তৈরি রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি, মন্দির, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা; যেমন জজ, কমিশনার, সিভিল সার্জন, কালেক্টরদের সরকারি বাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রেললাইন বেঁকে যাওয়া এবং ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল।

সিলেটে একদিনে পাঁচবার ভূমিকম্প

উল্লেখ্য, শনিবার (২৯ মে) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিলেট অঞ্চলে পাঁচবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

শনিবার সকালে প্রথম দফা অনুভূত হয় ১০টা ৩৬ মিনিটে। ভূমিকম্পের সময় অনেককেই কর্মস্থল থেকে বের হয়ে খোলা স্থান ও সড়কে চলে আসতে দেখা যায়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই ১০টা ৫১ মিনিটে, বেলা সাড়ে ১১টা ও ১১টা ৩৪ মিনিটে আবারো মৃদু ঝাঁকুনি অনুভূত হয় সিলেট অঞ্চলে।

সবশেষ বড় ঝাঁকুনি অনুভূত হয় বেলা ২টায়। ঘন ঘন এমন ঝাঁকুনিতে বিশেষ করে নগরীর উঁচু ভবনে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়