ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ৮ ১৪২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩:২৪, ১৬ জুন ২০২০
আপডেট: ০০:০৭, ১৭ জুন ২০২০

‘লাসুবন’- শ্রীমঙ্গলে প্রাচীন গিরিখাতের সন্ধান!

শ্রীমঙ্গলের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় প্রাচীন গিরিখাত। ছবি: রনজিত জনি

শ্রীমঙ্গলের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় প্রাচীন গিরিখাত। ছবি: রনজিত জনি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একাধিক প্রাচীন গিরিখাত বা গিরিসঙ্কটের সন্ধান পাওয়া গেছে। খাসি ভাষায় লাসুবন বা পাহাড়ী ফুল নামে এই এলাকায় রয়েছে ছোটবড় অনেক পাথুরে ছড়া। এরমধ্যে বড় তিনটি গিরিখাত বা গিরিসঙ্কট সম্প্রতি নজরে এসেছে পর্যটকদের। এলাকাটি পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে বলে ধারণা সবার। তবে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করেই নতুন এই পর্যটন স্পটের উন্নয়নের কথা বলছেন পরিবেশবিদরা।

ঝিরিধারা- অবিরাম জলের শব্দ

সম্প্রতি সিন্দুর খাঁ ইউনিয়নে অবস্থিত নৈসর্গিক জায়গাটি ঘুরে দেখে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুরো জায়গাটি পড়েছে স্থানীয় নাহার খাসি পল্লীর ভেতর। খাসি ভাষায় লাসুবন বা পাহাড়ী ফুল নামে ডাকা হয়। একটি পাহাড়ী ছড়া ধরেই পুরো এলাকাটি ঘুরে আসা যায়। এই লাংলিয়াছড়া ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে এসেছে। প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ বেয়ে মিশেছে শ্রীমঙ্গলের বিলাস ছড়ায়। সাপের মতো আঁকাবাঁকা লাংলিয়া ছড়ায় মিশেছে প্রায় শ খানেক ছোটবড় পাথুরে ছড়া। এরমধ্যে কয়েকটি গিরিখাত বা গিরিসঙ্কট রয়েছে। স্থানীয় খাসি ভাষায় ক্রেম ক্লু, ক্রেম কেরি ও ক্রেম উল্কা নামে বড় তিন গিরিখাত পর্যটকদের মুল আকর্ষন। পাহাড় থেকে শ পাঁচেক নিচে এসব গিরিখাত কোথাও বড় আবার কোথাও সরু। রয়েছে ছোট ছোট ঝিরিধারা- অবিরাম জলের শব্দ।

স্থানীয়রা জানালেন, পুরো এলাকায় আছে ছোট বড় অর্ধ শত ছোট ঝিরিধারা। পাহাড় বেয়ে নেমে আসা এসব ঝিরির কয়েকটি বেশ বড়। এর একটিকে স্থানীয়রা ডিবারমিন ঝর্ণা নামে ডাকেন।

বনজীবিদের কাছে প্রকৃতিই সব

নাহার খাসি পুঞ্জির প্রধান ডিবারমিন পতাম বলেন, এই জায়গাটি আমরা যত্নে রেখেছি প্রকৃতি পরিবেশের কোনো ক্ষতি হতে দেইনি। এখানে পর্যটন উন্নয়ন হোক তাতে আমাদের সমস্যা হবেনা। তবে পরিবেশের বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ম দিতে হবে। নয়তো আমাদের জীবন জীবিকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কারণ আমরা বনজীবিদের কাছে প্রকৃতিই সব।

তিনি বলেন, আমাদের ভূমি সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যাটা মীমাংসা করার জন্য আমরা আবেদন করেছি। আর সরকার যাই করুক যেনো আমাদের সাথে নিয়ে করে। কারণ এই এলাকায় কোথায় কি আছে সেটা আমরা জানি। আমাদের সাখে আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই যেনো সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

পর্যটন- প্রাণ-প্রকৃতির জন্য সুখবর নয়

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার মৌলভীবাজারের সমন্বয়ক আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, মৌলভীবাজারে নতুন নতুন অনেক প্রাকৃতি পর্যটন স্পটের সন্ধান মিলছে সেটার দুটো দিক রয়েছে। পর্যটনের জন্য সুখবর হলে প্রাণ-প্রকৃতির জন্য সুখবর নয়। আমাদের পর্যটকের বড় একটা অংশ প্রকৃতিকে যত্ন করতে জানেন না বা খামখেয়ালিপনার স্বভাব তাদের। পর্যটনের নামে প্রকৃতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবিষয়টি প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে।

গিরিখাত নিয়ে মতপার্থক্য

তিনি আরো বলেন, নাহারে সন্ধান পাওয়া স্পটটিকে গিরিখাত বলা যাবে কী না সেটা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিষেশজ্ঞ পরিদর্শনের মাধ্যমে ক্যাটাগরি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এবং স্থানীয় আদিবাসীদের জীবন জীবিকায় যাতে কোনো ব্যঘাত না ঘটে সেইটা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সেখানে পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করে রাখতে হবে।

ঝুঁকি নিয়ে না যেতে পরামর্শ

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, সীমান্তবতী এই স্থানে এখনো রাস্তাঘাট গড়ে ওঠেনি। সে কারণে কেউ যাতে ঝুঁকি নিয়ে আপাতত সেখানে না যান, আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি। রাস্তাঘাট তৈরীসহ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পর সীমিত আকারে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অবস্থান

জায়গাটির অবস্থান ঢাকা থেকে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ঘন জঙ্গলবেষ্টিত পাহাড়ী এলাকায়। প্রথমে জীপ বা মোটরসাইকেল নিয়ে, তারপর পায়ে হেঁটে কয়েক কিলোমিটার। হাঁটার পথ পাহাড়ী ছড়া ও খাড়া পাহাড়।

শ্রীমঙ্গলের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একাধিক প্রাচীন গিরিখাত ঘুরে ছবি তুলেছেন আই নিউজের স্টাফ ফটোগ্রাফার- রনজিত জনি

এইচকে/ আই নিউজ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়