ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ২৫ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৬:৪০, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

ইলন মাস্ক: যা জানি আর যা জানি না

ছবি: Forbes

ছবি: Forbes

গোটা বিশ্বের ধনীদের তালিকায় শীর্ষে থাকা ইলন মাস্ক বর্তমান তরুণ প্রজন্মের আইকন। একজন সফল উদ্যোক্তা এবং বৈচিত্র্যময় লাফস্টাইলের কারণে ইলন মাস্ককে নিয়ে তাই আগ্রহেরও শেষ নেই। পেশাগত জীবনে সাফল্যের দেখা পেতে তাই দৃষ্টান্ত হিসেবে বেছে নেন ইলন মাস্ককে। আইনিউজের পাঠকদের জন্য আজকের প্রতিবেদনে থাকবে ইলন মাস্ক সম্পর্কে জানা অজানা নানান তথ্য-

জেফ বেজোস, বিল গেটসকে পেছনে ফেলে ধনীদের মধ্যে শীর্ষে আছেন ইলন মাস্ক। তাঁর জন্ম ৯৭১ সালের ২৮ জুন, দক্ষিন আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায়। ১৯৮০ সালে বাবা মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পর, ইলন মাস্ক প্রিটোরিয়ায় তার বাবার সঙ্গে বসবাস করা শুরু করেন।

ইলন মাস্ক এবং তার মা মায়া মাস্ক

ইলন মাস্ক তার বাবাকে পছন্দ করতেন না, তিনি তাঁর বাবাকে "বাজে মানুষ" বলে অভিহিত করেছিলেন এবং বর্তমানে পারিবারিকভাবে বিচ্ছিন্ন আছেন। ইলন মাস্কের একজন সৎভাই ও একজন সৎবোন আছে।

শৈশবকাল হতে ইলন মাস্ক বই পড়তে ভালবাসতেন। দশ বছর বয়সে কমোডর ভিআইসি-২০ কম্পিউটার ব্যবহার করতে গিয়ে কম্পিউটারের উপর তাঁর আগ্রহ জন্মে। তিনি একটি ব্যবহার নির্দেশিকা ব্যবহার করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখেন। বার বছর বয়সে তিনি বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে একটি ভিডিও গেম তৈরী করেন, যার নাম ছিল ব্লাস্টার। এই গেমটি ৫০০ ডলারে তিনি পিসি এন্ড অফিস টেকনোলজি ম্যাগাজিনের কাছে বিক্রি করে দেন।

ছোট থাকতে ইলন মাস্ক আইজাক আসিমভের ফাউন্ডেশন সিরিজের বই পড়তেন। যেখান থেকে তিনি শেখেন "সভ্যতার বিকাশে, অন্ধকার যুগের সম্ভাবনা ও স্থায়িত্বকাল কমাতে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।

ইলন মাস্ক শৈশবে প্রচন্ড বুলিইং এর স্বীকার হয়েছিলেন

ইলন মাস্ক শৈশবে প্রচন্ড বুলিইং এর স্বীকার হয়েছিলেন। এক দল ছেলে তাকে সিড়ি থেকে ফেলে দিয়েছিল বলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তিনি ওয়াটারক্লুফ হাউজ প্রিপারেটরি স্কুল এবং ব্রায়ানস্টোন হাই স্কুলে লেখাপড়া করেছিলেন।

স্নাতকোত্তর শেষে পিএইচডি’র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পান মাস্ক৷ কিন্তু অর্থ উপার্জনের নেশায় পিএচইডি অধরা থেকে যায়৷ বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বের তরুণদের আইকন তিনি৷

স্পেস-এক্স এবং টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মোট সম্পদের অর্থমূল্য ১৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার৷ ব্লুমবার্গ সূচক অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এখন ইলন মাস্ক৷ গত তিন বছর ধরে শীর্ষ ধনী অ্যামাজনের প্রধান জেফ বেজোসকে পেছনে ফেলেন তিনি৷ গতবছর প্রায় আট গুণ বেড়েছে টেসলার শেয়ারের দাম৷ টেসলায় ২০ শতাংশ শেয়ার আছে মাস্কের৷

১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কোম্পানির কাছে ২২ মিলিয়ন ডলারে জিপ-টু বিক্রি করেন মাস্ক

উদ্যোক্তা হিসেবে ভাইকে সাথে নিয়ে তিনি জিপ-টু নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন৷ ১৯৯৫ সালে এর পথচলা শুরু হলেও সফল হতে সময় লেগেছিল৷ সেসময় অ্যাপার্টমেন্টে থাকার খরচ না থাকায় অফিসেই ঘুমাতেন৷ ১৯৯৯ সালে কমপ্যাক কোম্পানির কাছে ২২ মিলিয়ন ডলারে জিপ-টু বিক্রি করেন তিনি৷

পেপ্যাল নামের টাকা লেনদেনের একটি ডিজিটাল সার্ভিস চালু করে তিনি সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে যান৷ ১৯৯৯ সালে তিনি এক্স.কম নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যা পরে পেপ্যালের সাথে একত্রিত হয়৷ ২০০২ সালে ই-বে’র কাছে পেপ্যাল ১.৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে দেন৷ এই বিক্রি থেকে তার লাভ থাকে ১৬৫ মিলিয়ন ডলার৷

২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা মাস্কের

রকেট নির্মাণপ্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স৷ গত ফেব্রুয়ারিতে স্পেসএক্সের তৈরি রকেট ফ্যালকন হেভির সফল উৎক্ষেপণের পর তুমুল আলোচিত হন মাস্ক৷ স্পেসএক্স থেকে ফ্যালকন ১ নামের রকেটটি উৎক্ষেপণ করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন কিন্তু হাল ছাড়েননি৷ ২০৫০ সালের মধ্যে মঙ্গলে একটি পরিপূর্ণ শহর স্থাপনের পরিকল্পনা মাস্কের৷

২০১২ সালে হাইপারলুপ প্রযুক্তির দৈনন্দিন ব্যবহারে সর্বপ্রথম আগ্রহ দেখান ইলন মাস্ক৷ হাইপারলুপ-এর জন্য সুরঙ্গ খুঁড়তে তিনি ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’ নামক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন৷ সম্প্রতি ঘণ্টায় এক হাজার কিলোমিটার গতিবেগে চলা হাইপারলুপের প্রথম পরীক্ষা সফল হয়৷

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেস এক্স৷ স্পেস-এক্স-এর সবচেয়ে আধুনিক ফ্যালকন রকেটের মাধ্যমে ২০১৮ সালের মে মাসে বঙ্গবন্ধু-১ টেলিকম স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয়৷

নিজের বেতন হিসেবে বিশ্বের অন্যতম সফল এই উদ্যোক্তা বছরে নেন মাত্র এক ডলার! শুনে আশ্চর্য হলেও আশ্চর্য হবার কিচ্ছু নেই। নিজের অংশীদারিত্ব থাকা বিভিন্ন কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশসহ আরো কিছু সুবিধা পান মাস্ক, যার বেশিরভাগই আসে টেসলা থেকে৷ বছরে ১ ডলার বেতন নেয়াটা আসলে সিলিকন ভ্যালির একটা ট্রেন্ড৷

বিতর্কের জন্ম দিতে ভালোবাসেন মাস্ক৷ টুইটারে নানা বিতর্কিত টুইট করেন৷ নিজের প্রতিষ্ঠানের সহযোগীদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন নানা সময়৷ একবার কমেডিয়ান জো রোগান-এর সঙ্গে অংশ নেওয়া এক পডকাস্টে সরাসরি সম্প্রচারের সময় গাঁজা সেবন করেছিলেন৷

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়