ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:১৩, ১১ মার্চ ২০২১

জেনে নিন কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। মানুষ যেসকল প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় তার মধ্যে একটি কিডনি রোগ। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোনো না কোনো কিডনি রোগে আক্রান্ত। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এই রোগের লক্ষণগুলো সামনে আসে না। ফলে চিকিৎসা করাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা দরকার।

কিডনি রোগের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ১১ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব কিডনি দিবস। এখানে তুলে ধরা হলো কিডনির রোগের এমন কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ, যা রোগটি নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।

কিডনি রোগের লক্ষণ

চোখের চারপাশ ফোলা

কিডনি দেহের রক্তকে পরিশোধন করে। কিডনির রোগে এ পরিশোধনপ্রক্রিয়া নষ্ট হয়। কিডনির রোগের সূত্রপাতে কিডনি রক্ত পুরোপুরি পরিশোধন করতে পারে না। ফলে মূত্রের সঙ্গে দেহের প্রোটিন বের হয়ে যায় এবং এতে চোখের চারপাশ ফুলে ওঠে।

উচ্চ রক্তচাপ

দেহের রক্ত পরিবহনতন্ত্রের সঙ্গে কিডনির নিবিড় যোগাযোগ আছে। কিডনি যখন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না তখন রক্ত পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পায় না। এ অবস্থায় রক্তচাপও বেড়ে যায়।

প্রস্রাবে পরিবর্তন

প্রস্রাবের কয়েকটি পরিবর্তনে কিডনি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসা, বিশেষত রাতে বৃদ্ধি পাওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ। এ ছাড়া প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত, প্রস্রাব করতে অসুবিধা বোধ হওয়া, ফেনা ফেনা প্রস্রাব কিংবা ঘুমের মধ্যে প্রস্রাব হওয়াও কিডনি রোগের লক্ষণ হতে পারে।

পিঠ ও কোমর ব্যথা

কিডনি রোগের সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ পিঠ ব্যথা বা কোমর ব্যথা। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠ বা কোমরে একটানা ব্যথা দেখা দিতে পারে। এ ব্যথা একাধিক দিন চললে কিডনি রোগের আশঙ্কা পরীক্ষা করতে হবে।

গোড়ালি ও হাত ফোলা

কিডনি রোগে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে পারে। যদি মুখ, হাত, পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা হঠাৎ করে ফুলতে শুরু করে তাহলে তা কিডনি রোগের গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে।

রুচি নষ্ট ও নিঃশ্বাসে গন্ধ

কিডনি রোগে রক্তে জমে যায় বহু বর্জ্য পদার্থ। আর এ বর্জ্য পদার্থের কারণে নিঃশ্বাসে গন্ধ হয়ে থাকে। এ ছাড়া অনেকেই খাবারের স্বাদ গ্রহণের সময় ধাতব বস্তু খাওয়ার মতো স্বাদ পান।

ত্বকের সমস্যা

কিডনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীর থেকে বর্জ্য ঠিকভাবে বাইরে যেতে পারে না। ফলে ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্লান্তি ও দুর্বলতা

কিডনি রোগে আক্রান্ত মানুষের শরীরের বিভিন্ন কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে না। ফলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি ভাব দেখা দেয়।

যেসব খাবারে কিডনি ভালো থাকে

► প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস (২ লিটার) বিশুদ্ধ পানি পান করা। তবে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে অধিক পানি পান করা প্রয়োজন।

► দানা বা বীজ জাতীয় খাদ্য খান যেমন ব্রেড, নুডুলস, বাদাম ইত্যাদি। সপ্তাহে অন্তত একটি কচি ডাবের পানি পান করুন। প্রতিদিন অন্তত চারটি থানকুচি পাতা খেতে হবে। শশা, তরমুজ, লাউ, বাঙ্গি, কমলালেবু, লেবু, মাল্টা, ডালিম, বীট, গাজর, আখের রস, বার্লি, পিয়াজ, সাজনা ইত্যাদি পরিমাণ মতো খেতে হবে।

কিডনি রোগীর অবশ্য বর্জনীয় খাদ্যসমূহ 

চকোলেট, চকোলেট দুধ, পনির, গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরগীর মাংস, সস, পিচস, ব্রকোলি, বাদাম, মাশরুম, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, টমেটো, কলা, খেজুর ও আচার।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়