Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৪ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ১৯ ১৪৩২

প্রকাশিত: ০৭:১৭, ৩১ আগস্ট ২০১৯
আপডেট: ০৭:১৯, ৩১ আগস্ট ২০১৯

গুনে গুনে ঘুষ নেন সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার (ভিডিও)

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি যেন ঘুষের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসের ঘুষ গ্রহণ এখন ওপেন সিক্রেট বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এরইমধ্যে তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

দলিল লেখকরা বলেছেন, ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো দলিলই পাশ করেন না। ঘুষের টাকা নিজ হাতে গুনে নিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেন তিনি।

তিনি দলিল প্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে থাকেন। এ টাকা তাকে বুঝে না দিলে তিনি কোনো কাজ করেন না। ফলে নিরুপায় হয়ে দলিল লেখকরা দাতা ও গ্রহীতাদের কাছে থেকে তা আদায় করে দিতে বাধ্য হন।

এর প্রতিবাদে দলিল লেখকরা আন্দোলন করেও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো পাঁচ দলিল লেখক সাসপেন্ড হয়েছেন। কিসের জোরে তিনি এমন ক্ষমতা দেখান তা দলিল লেখকরা জানেন না। ফলে তারা সাব রেজিস্ট্রারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

এ সুযোগে অনেকেই দাতা ও গ্রহীতার থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে খোদ দলিল লেখকরা।

দলিল লেখক মো. সোহেল রানা জানান, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুব্রত কুমার দাস শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি এ অফিসটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেন। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন এ অফিসের সুমন ও আব্দুস সালাম নামের দুই কর্মচারী।

দলিল লেখক মো. সোহেল রানা আরো জানান, হেবা ঘোষণা পত্রের দলিলের জন্য সরকারি ফি নির্ধারণ করা আছে ৬৪০ টাকা ও এনফি ২৪০ টাকা। সেখানে সরকারি ফি ব্যতীত প্রতিটি দলিলের জন্য শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস কখনো নিজ হাতে আবার কখনো সুমন বা আব্দুস সালামের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিচ্ছেন। প্রমাণ হিসেবে এ সংক্রান্ত গোপন ভিডিও ফুটেজ তার কাছে সংরক্ষিত আছে।

এ বিষয়ে সুমন ও আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের কোনো সদুত্তর না দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে আপনারা কথা বলেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কায়েমপুর ইউপির ব্রজবালা গ্রামের মো. মানিক বলেন, আমি একটি হেবার ঘোষণাপত্র দলিল রেজিস্ট্রি করতে এ অফিসে আসি। প্রথম দিন আমাকে নানা অজুহাতে দলিল রেজিস্ট্রি না করে পরে আবার আসতে বলেন। কয়েকদিন ফেরত যাওয়ার পর আমি অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ দিতে রাজি হলে আমার দলিল রেজিস্ট্রি করে দেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভেন্ডার মোস্তাক আহম্মেদ জানান, দলিল প্রতি ৩০০ টাকা করে না দিলে তার স্ট্যাম্পের দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় না।

সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে কথা বলায় তার সরবরাহকৃত স্ট্যাম্পের দলিল রেজিস্ট্রি বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে দলিল লেখক ওসমান গণি জানান, কর্তারা যেভাবে চালান আমরা সেই ভাবেই চলি। এ বিষয়ে এর চেয়ে আর বেশি বলার দরকার পড়ে না। এটা সবাই বোঝে।

সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজের একটিতে দেখা যায়, শাহজাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাস নিজেই একজন দলিল লেখকের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা উৎকোচ নিচ্ছেন।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দলিলের উৎকোচ বাবদ আনিছ নামে এক ব্যক্তিকে প্রথমে তিন হাজার টাকা দিলে আনিছ ওই দলিল লেখককে বলেন স্যার ৩৫০০ টাকা দিতে বলেছেন।

পরে দলিল লেখক টাকা না দিয়ে সাব রেজিস্ট্রারকে ফোন দিতে বলেন। আনিছ সঙ্গে সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার দাসকে ফোন দিয়ে কথা বলেন। এরপর তিন হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলেন ৩৫০০ টাকার কমে হবে না। বাধ্য হয়ে ওই দলিল লেখক তাকে ৩৫০০ টাকাই দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার শুব্রত কুমার দাস জানান, আমি বা আমার অফিসে কোনো প্রকার ঘুষ নেয়া হয় না। আপনারা যা শুনেছেন তা সঠিক নয়। একটি অসাধু মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার আবুল কালাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ ডিসি ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারের বিষয়ে আমি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[embed]https://www.facebook.com/barkat.xyz/videos/608920649933401/?t=7[/embed]

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়