ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুন ২০২৬,   আষাঢ় ২ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ০৫:৫৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ০৫:৫৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর এখন এক ভীত সন্ত্রস্ত জনপদের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর। মূলত কাশ্মীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতোটা মোহনীয় যে একে ভূ-স্বর্গ বললে একটুও ভুল হবেনা। কিন্তু এখন সময়ে কাশ্মীর এক ভীত সন্ত্রস্ত জনপদের নাম। বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে এখানকার জনপদে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপদ। জন্মলগ্ন থেকেই কাশ্মীর কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করে এসেছে। কাশ্মীরের গত ৬০০ বছরের ইতিহাসের সর্বত্রই ছিলো কঠিন পরিস্থিতি। কিন্তু এই ৬০০ বছরে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনা কাশ্মীরের ভিতকে আমূল নাড়িয়ে দিয়েছে। বিপর্যস্ত করে তোলেছে কাশ্মীরবাসীর জীবনযাপন।

এর আগে কখনো কোনো ঝামেলার মধ্যেও শ্রীনগরের ১৪ শতকে নির্মিত মাজার খানকাহ-ই-মওলার শুক্রবারের নামাজ বন্ধ হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ওই মাজারে ঈদের ও শুক্রবারের নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মাজারের ইমাম হাজি বিলার আহাদ হামদানি স্ক্রলডটইনকে বলেন, ‘সব বিক্ষোভের সময়ও আমরা নামাজ বন্ধ রাখিনি এখানে। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরের সর্বত্র যখন বন্দুকের নল ঝলসে উঠছিল তখনো আমার বাবা ভোরবেলা নামাজ পড়তেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উক্তির বয়ান দিতেন।’

৯ আগস্টের কয়েক দিন আগে থেকেই মাজারটির ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। হামদানি বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় মহারাজ গুঞ্জ থানা থেকে আমাদের কয়েকজনকে যেতে বলা হয়। তাদের বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঈদের ও শুক্রবারের নামাজ বন্ধ রাখতে হবে। এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করলে আমাদের প্রতিনিধিদের হুমকি দিয়ে বলা হয়, আপনারা কি যোধপুরে যেতে চান?’

৩৭০ ধারা বাতিলের পর অনেক কাশ্মীরিকে গ্রেফতার করে ওই অঞ্চলের বাইরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজন ধর্মীয় নেতাও রয়েছেন। স্ক্রলডটইন কাশ্মীরের চারটি জেলার ১৪ জন ধর্মীয় নেতা ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে। যদিও জম্মু-কাশ্মীরের একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মসজিদগুলোতে কোনো দমনাভিযান চালানো হচ্ছে না।

কৈলাসপাড়ার এক স্থানীয় তরুণ বলেন, ‘স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ আমাদের হিতকর উৎসবগুলো পালন করতে দিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই তারা ঈদের দিন ও শুক্রবার নামাজ পড়তে দেয়নি ওই মাজারে। মাজারের সামনে তারা সিপিআরএফ এবং পুলিশ মোতায়েন করে রেখেছিল।’

গত মাসের ২৯ তারিখেও মাজারটির সামনে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের সদস্যদের দেখা যায়। ৭২ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ মুবারক বলেন, ‘ভারত ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু কোথায় সেটা? কাশ্মীরে ভারতীয় জনতা পার্টির পদচিহ্ন পড়েছে। আমার গোটা জীবনে কখনো আমি মাজারে পুলিশ দেখিনি।’

মাজার-মসজিদগুলোকে মনিটরের আওতায় রাখা নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় মাজার, মসজিদ, মাদ্রাসা, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের ওপর নজরদারি করা হয়। কিন্তু স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের মতে, এবারের নজরদারি অতীতের সব নজরদারির চেয়ে ভিন্ন।

কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলের বারামুল্লা জেলার ধর্মীয় নেতাদের স্থানীয় সেনাক্যাম্পে তলব করে ৩৭০ ধারা বাতিলের সুবিধা ব্যাখ্যা করা হয়। এ সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ধর্মীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। ঈদের কয়েক দিন আগে তাদের ত্রাগপোরা ৩২ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস ক্যাম্পে তলব করা হয়েছিল।

এরপরও ১২ আগস্ট কাশ্মীরের বেশকিছু এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছিল ৩৭০ ধারা বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। সোপিয়ান জেলার পথে-প্রান্তরে এখনো ভারতীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা আছে উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায়। কারণ কাশ্মীরের যে কয়েকটি অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয় তার মধ্যে সোপিয়ান অন্যতম।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়