আপডেট: ১২:১৬, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
১১ ছাত্রীর চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষিকা, দাবি চুল থাকলে ব্রেন নষ্ট হয়
আইনিউজ ডেস্ক: মাথায় বেশি চুল থাকলে ব্রেন নষ্ট হয় বলে জোর করে ১১ ছাত্রীর চুল কেটে দিলেন এক প্রধানমন্ত্রী। দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। অথচ ওই প্রধান শিক্ষকের নিজের মাথায় চুল রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ২৯ নম্বর ডিএমখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন অভিভাবক ও ছাত্রীদের স্বজনরা।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ তদন্তে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মশিউল আজম হিরক। দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে ওই বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ১১ ছাত্রীর চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী জুমান। প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপ নির্দেশ দিয়ে, দাঁড়িয়ে থেকে চুল কাটা তদারক করেন। তাই ভয়ে ছাত্রীরা কান্নাকাটি শুরু করে। আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেননি।
এ খবর জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙে পড়েছে ছাত্রীরা। কয়েকজন বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী এক ছাত্রী জানায়, আমার চুল অনেক বড় ছিল। আমি কাটতে বারবার নিষেধ করেছি। কিন্তু ম্যাডামের হুকুমে দপ্তরি জোর করে আমার চুল কেটে দিয়েছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি। এলোপাতাড়ি চুল কাটায় এখন সব চুল ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। আমি লজ্জায় স্কুলে যাইনি। আমি এর বিচার চাই।
আরেক ছাত্রী জানায়, আমরা কান্না করেছি। ম্যাডাম বলে মাথায় চুল থাকলে ব্রেন খারাপ হয়ে যায়, উকুনে রক্ত খেয়ে ফেলে। তাই চুল কেটে দিয়েছে। এলোমেলো করে চুল কেটেছে দপ্তরি। তাই আমার সব চুল ফেলে টাক হয়ে গেছি।
এক ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে। কিছুদিন পর হাই স্কুলে যাবে। একজন পুরুষ ছেলে দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষক পেল কোথায়? চুল হলো মেয়েদের অলংকার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। ঘর থেকে লজ্জায় বের হয় না। আমি ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাই।
স্থানীয় আব্দুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষিকা কীভাবে ছেলে দপ্তরি দিয়ে মেয়েদের চুল কাটার হুকুম দিতে পারে আমি বুঝি না। চুলের জন্য মেয়েরা যেভাবে কান্না করেছে তাতেও শিক্ষিকার মন গলেনি। এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। আমি তাদের শাস্তি চাই।
ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি ও নৈশপ্রহরী জুমান বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষিকা চুল কাটতে বলেছে। আমি বিদ্যালয়ে থাকা কাঁচি দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোনো দোষ নাই।
প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, আমি মাসখানেক আগে মা সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝে নাই। তাই আমরা উপস্থিত থেকে দপ্তরিকে দিয়ে শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে মেয়েদের চুল কেটেছি। এ নিয়ে কিছু লোক প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানার সঙ্গ সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। দুঃখজনক ব্যাপার। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছি। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আইনিউজ/এইচএ- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক























