Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২০ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:২৬, ২ জুলাই ২০২২

মশা মারতে কামান নয়, ড্রোন দাগালো ঢাকা উত্তর সিটি

“মশা মারতে কামান দাগা” প্রবাদটি বাঙালিদের কাছে বেশ পরিচিত। বাস্তবে মশা মারতে কামানের ব্যবহার না দেখা গেলেও এবার ড্রোন দিয়ে মশা খুঁজতে দেখে গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে রাজধানীবাসীকে মশার হাত থেকে মুক্তি দিতে ড্রোন দিয়ে মশা খোঁজার কার্ক্রম শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। ড্রোন দিয়ে ছাদ বাগানে, ছাদে মশা খুঁজবে সংস্থাটি।

শনিবার (২ জুলাই) ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএনসিসি। ১১ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা উত্তরের আওতাধীন প্রতিটি বাসা-বাড়িতে অত্যাধুনিক ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস খুঁজতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

শনিবার সকালে গুলশান-২ এর ৭৪ নম্বর রোডের একটি সুউচ্চ ভবনের ছাদে এ কার্ক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমানসহ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, মশক নিধন কর্মীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ড্রোনের মাধ্যেমে অন্য ছাদে মশার উৎপত্তিস্থল খুঁজে দেখার অভিযানের খবরে ভবনের নিচে উৎসুক মানুষ ভিড় করে। 

ড্রোনের মাধ্যমে মশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমাদের মশক নিধন কর্মীদের যদি বলি তোমরা ছাদে উঠে উঠে মশার উৎপত্তিস্থল চিহ্নিত করো, তাহলে তারা দুই, চার বা সর্বোচ্চ ১০টি বাড়ি দেখবে। আবার অনেক বাড়িতে ঢুকতে দেয় না তাদের। কিন্তু একটি উঁচু ভবনে যখন আমরা উঠে ড্রোন দিয়ে দেখছি, তখন আশপাশের শত শত বাড়ি কিন্তু আমরা একঘণ্টার মধ্যে দেখে ফেলতে পারছি। এতে করে যেমন কাজ সহজ হয়েছে, তেমনি দ্রুততার সাথে মশার উৎপত্তিস্থল ছাদও কিন্তু আমরা চিহ্নিত করে ফেলছি। সেই সঙ্গে তাৎক্ষণিক সেই ভবনে গিয়ে আমরা মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি। মূলত এই কারণেই আমরা মশক নিধন কর্যক্রম বেগবান করতেই আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন ব্যবহার করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন ড্রোন নিয়ে একেকটি ভবনে যাচ্ছি, আশপাশের শত শত ভবনের ছাদ দেখছি, তখন অন্য ভবন মালিকরাও কিন্তু সচেতন হয়ে যাচ্ছে। অভিযানে দণ্ডিত যেন তারা না হয়, সে কারণে নিজেরাই তাদের ভবনের ছাদ পরিষ্কার রাখছে। মূলত এটাই আমাদের দরকার, সবাই সচেতন হলে মশক নিধন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া থেকে আমরা নগরবাসীকে রক্ষা করতে পারব।”

এর আগে, গত ৩০ জুন বৃহস্পতিবার উত্তরা সেক্টর-৪ এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মশার উৎস শনাক্তকরণ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সে সময় তিনি বলেন, “নগরের প্রতিটি বাড়িতে প্রবেশ করে ছাদ বা বেলকনিতে মশার উৎস খুঁজে বের করা কঠিন এবং এটি অনেক সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিটি বাড়ির ছাদে এডিসের লার্ভা আছে কি না, তা খুঁজে বের করা হবে এবং পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়