ঢাকা, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ৮ জুন ২০২০

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা: বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: আইনিউজ

ছবি: আইনিউজ

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা ও মানব পাচারের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ হত্যার ঘটনায় দেশে গ্রেফতারকৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা কীভাবে মানব পাচার করে সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব খবর বেরিয়ে এসেছে।

গতকাল রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা ও মানব পাচারের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো- বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান ও লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু। এ সময় তাদের হেফাজত হতে চারটি পাসপোর্ট, দুইটি মোবাইল ফোন ও  দুইটি নোট বুক উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে ব্রিফিংকালে ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন বলেন, মানব পাচারের ঘটনায় ভিকটিমদের ভারত, দুবাই, মিশর হয়ে লিবিয়াতে পাচার করার পরিকল্পনা, প্রক্রিয়া করা এবং ক্ষেত্রবিশেষে বিমানবন্দর, ঢাকাকে ব্যবহার করার কারণে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দায়েরকৃত মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে।

বাতেন আরো বলেন, ২৮ মে লিবিয়ার মিসদাহ উপ-শহরের মরুভূমিতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মারাত্মকভাবে আহত করা হয় আরো ১১ জনকে। লিবিয়া ও ইতালিতে অভিবাসী হতে যাওয়া শত শত বাংলাদেশি বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনে আহত, নিহত ও চিরতরে নিখোঁজ হয়েছেন। এ সব ঘটনায় ভিকটিমদের আত্মীয় স্বজনদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ এবং ডিএমপি’র পল্টন ও তেজগাঁও থানায় মামলা হয়।

তিনি বলেন, লিবিয়ার বিভিন্ন এস্টেটে কাজ ও লিবিয়া হতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি দালালরা অন অ্যারাইভাল ও ভিজিট ভিসার মাধ্যমে লোকজনকে লিবিয়ায় পাচার করে। লিবিয়ায় পাচার করে ভিকটিমদের লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে আটক রেখে শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন করে। 

বাতেন বলেন, নির্যাতিত ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি মিনতি করা অডিও বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের পাঠায় অথবা সরাসরি মোবাইলে কথা বলে টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। ভিকটিমদের বাচাঁতে তার আত্মীয়-স্বজন কোন কোন ক্ষেত্রে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠায়।

তিনি আরো জানান, মাদারীপুরের নিহত ৭ জনকে বাংলাদেশ হতে লিবিয়াতে আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল তার ভাই গ্রেফতারকৃত আকবর হোসেন। গ্রেফতার বাদশা মিয়া ১৩ বছর ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। লিবিয়ার বেনগাজী, জোয়ারা শহরে তার নিজস্ব ক্যাম্প আছে। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে তিনি নিয়মিত লিবিয়াতে মানব পাচার করেন। পাচার করা বাংলাদেশিদের তার ক্যাম্পে আটক রেখে ইতালিতে সমুদ্রপথে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। মাদারীপুরের নিহতদের মধ্যে ৪ জনকে তার ক্যাম্পে আটক রেখে ত্রিপোলীতে পাচার করার এক পর্যায়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আবদুল বাতেন বলেন, গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম ঢাকাতে অবস্থান করে নিজস্ব কায়দায় বেনগাজীতে মানব পাচার ছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে সফট কপি দুবাই এবং লিবিয়াতে পাঠিয়ে টুরিস্ট ভিসা, অন অ্যারাইভাল ভিসা সংগ্রহ করে। গ্রেফতার সুজন ভিকটিম ইছার উদ্দিন, বিজয় ও মো. সজলকে লিবিয়ায় পাঠায়। ২৮ মে লিবিয়ায় ট্র্যাজেডিতে ভিকটিম মো. সজল আহত হয়ে লিবিয়ায় এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। নিখোঁজ মো. বিজয় ও ইছার উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

গ্রেফতারকৃতদের পল্টন থানা ও তেজগাঁও থানায় মানব পাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়