ঢাকা, শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ২০ ১৪৩৩

ঢাকা

প্রকাশিত: ২১:২০, ১০ জুন ২০২০

সবকিছু ঠিক থাকলে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কেন- হাইকোর্ট

‘যদি সবকিছু ঠিকভাবে মনিটরিংই করা হয় তাহলে রোগীরা কেন এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে?’- আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে এমন প্রশ্নই ছুড়ে দিলো হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন মন্তব্য করে। করোনাজনিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ অক্সিজেন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত। 

দেশের সব বেসরকারি- হাসপাতালের আইসিইউ সরকারিভাবে অধিগ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে রবিবার একটি রিট আবেদন হয়। আবেদনে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অনলাইনে ‘সেন্ট্রাল বেড ব্যুরো’ চালুরও নির্দেশনা চাওয়া হয়, যাতে রোগী কিংবা তার স্বজনরা অনলাইনে কোন হাসপাতালে কত শয্যা খালি রয়েছে তা জানতে পারেন।

সোমবার এ-সংক্রান্ত শুনানিতে সারাদেশে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে থাকা আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বেডের সংখ্যা, এগুলো কিভাবে বণ্টন হয় এবং এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে বুধবারের মধ্যে জানতে চায় হাইকোর্ট। এ ছাড়া করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করে আদালত। 

তারই ধারাবাহিকতায় আজ  বুধবার শুনানি হয়।  ভিডিও কনফারেন্সে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

এই ব্যাপারে আইনজীবি ইয়াদিয়া জামান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৭৩৩টি আইসিইউ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১৭টি হাসপাতালে ২৩৫ আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্থাপিত কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কার্যক্রম ইতেমধ্যে চালু রয়েছে।এ ছাড়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আদালতে তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিস্তারিত মনিটরিং করা হচ্ছে। 

তারপর তিনি বলেন, ‘শুনানিতে বলেছি, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে রোগীরা হাসপাতাল ঘুরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেকে আইসিইউ বেড পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্যসেবা পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইন নম্বরে আমি নিজেও ফোন করেছি। কিন্তু চারটি নম্বরে ফোন করার পরও তা রিসিভ হয়নি। পঞ্চম নম্বরে কল দিলে তা রিসিভ হলেও রোগী ভর্তির জন্য কোনো আইসিইউ বেড খালি রয়েছে কি না এমন প্রশ্নে কোনো তথ্য না দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।’ 

এখন প্রশ্ন এটাই, ‘সবকিছু যদি ঠিকই থাকে, মনিটরিং করা হয় তাহলে রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছে কেন? করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও অক্সিজেন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন আদালত।’ 

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় অব্যস্থাপনা নিয়ে আরও দুটি রিট আবেদন রয়েছে। আদালতসবগুলো একসঙ্গে শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুন দিন ধার্য করেছেন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়