ঢাকা, মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,   ভাদ্র ১৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৫২, ২ অক্টোবর ২০২০

করোনায় ৭০ হাজার পোশাকশ্রমিক চাকরিহারা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনায় ১০৬ পোশাক কারখানায় ৭০ হাজার পোশাকশ্রমিক ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক। তিনি বলেন, এই দায় শুধু পোশাকশিল্প মালিকদের নয়, বিদেশি ব্র্যান্ড ও ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে এ দায় নিতে হবে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্টের (সিইডি) আয়োজনে গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ অভিজ্ঞতা: শ্রমিকদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শিরোনামে এক অনলাইন আলোচনায় বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান।

আলোচনায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের পোশাক কারখানার জন্মই হয়েছে রপ্তানি করার জন্য। সে কারণে পোশাক খাতকে করোনার মতো মহামারিকে ভিন্নভাবে সামলাতে হবে। শ্রমঘন শিল্প হওয়ায় জনস্বাস্থ্যের ভারসাম্য রক্ষায় নজর দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এর আগে চলতি বছরের ৪ জুন এ অনুষ্ঠানে শ্রমিক নেত্রী নাজমা আক্তার বলেছিলেন এখন পর্যন্ত ৬০ থেকে ৭০ হাজার শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে। সে সময় তিনি বলেন, ছাঁটাই শুরু হয়েছে ঈদের পর ২৭ মে থেকেই।

তিনি জানান, টার্গেট করে, বেছে বেছে শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে মালিকরা। যারা ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত তাদের আগে বাদ দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে যাদের চাকরির মেয়াদ ১ বছরের বেশি তাদের যেন বেতন বাড়ানো না হয়, সে জন্যও অনেকে ছাঁটাই এর শিকার হচ্ছেন।

নিয়ম কানুন না মেনে অবৈধভাবে শ্রমিকদের অব্যাহতি পত্রে সাক্ষর করতে বাধ্য করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়কে বারবার চিঠি দেয়া হলেও এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

এদিকে করোনা পরিস্থিতিতে পোশাক কারখানার কাজও কমেছে ৫৫ শতাংশ। এমন অবস্থায় জুন থেকেই শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হবে বলেও জানিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক।

শ্রমিকদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য দেশের প্রথম স্টেট অব দ্য আর্ট কভিড-১৯ ল্যাব উদ্বোধন উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই পর্যন্ত ২৬৪ জন পোশাক শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এসব শ্রমিকদের সব ধরনের চিকিৎসার খরচ বহন করছেন উদ্যোক্তারা।

বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হক আরো বলেন, জুন থেকে শ্রমিকদের ছাঁটাই হবে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। কিন্তু করার কিছু নেই। তবে এ ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের জন্য কী করা হবে; এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলছি, কিভাবে এ সংকট মোকাবিলা করা যায়।

তিনি বলেন, এ অবস্থা হঠাৎ করে বদলেও যেতে পারে। তখন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকরাই কাজে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়