বিশেষ প্রতিবেদক
আপডেট: ১৫:৫২, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০
ফিরে দেখা ২০১৮ সালের নির্বাচন
আজ ৩০ ডিসেম্বর, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। তাছাড়া এই দিনটিকে আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।
তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থান একেবারেই বিপরীত। তারা ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে নিয়ে প্রশ্ন এবং অভিযোগের রয়েছে, রয়েছে বিতর্ক।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ বিএনপি ছাড়াও সব দল প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলো। তবে অভিযোগ ওঠে আওয়ামীলীগের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনেক অভিযোগ-বিতর্ক-প্রশ্নের মুখেও আওয়ামীলীগ টানা তৃতীয়বারের মতো দল গঠন করে।
এই নির্বাচনে বিএনপি মাত্র আসন পেয়ে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো। আর আওয়ামীলীগ পেয়েছিলো মোট ভোটের প্রায় ৮০ শতাংশ! একারণে এ নির্বাচনটি রাজনৈতিক আলোচনায় পরবর্তীতে অগ্রাধিকার পায়। এ প্রতিবেদনে ফিরে দেখবো ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু দিক-
ভোটের আগেই বাক্স ভরা ব্যালট পেপার!
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছিলো। কিছূ কিছু ভোট কেন্দ্র নিয়ে সরাসরি অভিযোগ ওঠে।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে সকালে ভত গ্রহণ শুরুর আগে বিবিসি'র এক সাংবাদিকের কাছে ব্যালট ভরা বাক্সসহ ধরা পড়েন।
ভোট গ্রহণের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে ঐ কেন্দ্রে বিবিসি'র সাংবাদিক দেখতে পান, বিভিন্ন বুথে ব্যালট বাক্স নেয়া হচ্ছে। ভোট শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা। কিন্তু ওই কেন্দ্রে বিবিসির সাংবাদিক যেসব ব্যালট বাক্স দেখেছেন, সেগুলো ছিল ব্যালট পেপার দিয়ে ভরানো।
তাছাড়া একইসময় প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে গিয়েও ব্যালট ভর্তি বাক্স দেখতে পান। বিএনপি এবং তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কিছু প্রার্থী ভোটের আগের রাতেই গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিলো ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়েছে।
অপরদিকে নির্বাচন কমিশন সরাসরি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আওয়ামীলীগ সরকারও এ ধরনের অভিযোগে সায় দেয়নি। জয়ী হয়ে তারা মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে।
থমথমে ভোট কেন্দ্রগুলো
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনে অনেক কেন্দ্রে বিএনপিসহ বিরোধী জোটের প্রার্থীদের এজেন্ট ছিল না। কেন্দ্রগুলোর বাইরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিস্থিতি ছিলো থমথমে।
সংবাদমাধ্যমের খবর হয়, কয়েক ঘন্টা ভোট হওয়ার পরই কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে যখন নানান খবর বা অভিযোগ প্রকাশ হচ্ছিল, তখনই ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি আরও কমে গিয়েছিল।
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও একই দৃশ্য দেখা গেছে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে। অনেক জায়গায় টেলিভিশন সাংবাদিকদের ক্যামেরায়ও ব্যালট পেপারে সিলরত অবস্থায় অনেকে ধরা পড়েছেন। ঢাকার শেওড়াপাড়ার একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ লাইন করে ভোটাররা দাঁড়িয়েছিলেন কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারেন নি।
এসবকিছু সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের নির্বাচনকে সফল, সুন্দর নির্বাচন বলে দাবি করেছিলো। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর আর ভোটের চিত্র বিবেচনা করলে এই নির্বাচনকে একচেটিয়া নির্বাচন বলা যায়।
কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নির্বাচন বয়কট
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দেশের সব দল অংশগ্রহণ করেছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই নির্বাচনে থাকেন নি।
ভোট গ্রহণ শুরুর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অনেক এলাকা থেকে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়া শুরু করেন।
দুপুর দু'টার মধ্যেই ১০০টির বেশি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা একের পর এক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অনেক জেলায় বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন বলেছিলেন যে বয়কটের বিষয়টি ছিল প্রার্থীদের নিজেদের সিদ্ধান্ত।
বিএনপির পুরোনো ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ২২টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী দিয়েছিল। তবে ভোটের দিন দুপুর দেড়টার দিকে জামায়াত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার কররার ঘোষণা দেয়।
আইনিউজে আরও পড়ুন-
আলোচিত-সমালোচিত একাদশ সংসদ নির্বাচনের ২ বছর পূর্ণ আজ
মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়েই ভোট দিচ্ছেন: পরিবেশ মন্ত্রী
ঘুমন্ত মানুষের গায়ে কম্বল পরিয়ে দিলেন ডিসি
ভোটের ফলাফলে চমক এবং প্রত্যাখান
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জোটসঙ্গীরা ২৮৮টি আসন পায়। আর বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট পায় মাত্র সাতটি। বাকি তিনটি আসন পায় অন্যান্যরা।
অনেক ভোট কেন্দ্রে একশো' ভাগ ভোট পড়ে বলে ফলাফলে দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কেউ ভোট পাননি অনেক কেন্দ্রে।
নির্বাচনের ছয় মাস পরে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র-ভিত্তিক যে ফলাফল প্রকাশ করে, তা পর্যালোচনা করে সুজন নামের একটি সংগঠন যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় যে ৭৫টি আসনের ৫৮৬টি কেন্দ্রে যত বৈধ ভোট পড়েছে, তার সবগুলোই নৌকা মার্কার প্রার্থীরা পেয়েছেন।
তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই ফলাফল সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। ৩০শে ডিসেম্বরই সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে তারা ফলাফল প্রত্যাখান করে।
ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন নজিরবিহীন অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, "দেশের সব জায়গা থেকে ভোট ডাকাতির খবর এসেছে। প্রহসনের এই নির্বাচন বাতিল করা হোক।"
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নির্বাচন বাতিল করে পুননির্বাচনের দাবি তুলে ধরেন।
১৫ জনের মৃত্যু ও কমিশনের বক্তব্য
২০১৮ সালের নির্বাচনে দেশের কয়েকটি জায়গায় সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন মারা যাওয়ার খবর পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এসব অস্বীকার করে জানিয়েছে, সুষ্ট পরিবেশে নির্বাচন শেষ করতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন।
আওয়ামীলীগ নেতাদের বক্তব্যেও ছিলো স্বস্তি। দলটির নেতারা বলেছেন, বিএনপি যখন যে নির্বাচনেই পরাজিত হয়েছে, সেই নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ফলে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগের ব্যাপারে তারা চিন্তিত নন।
তবে এসবকিছুর পরেও আওয়ামীলীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এবং টানা তৃতীয়বারের মতো তারা দল গঠন করে। এই দিনটিকে আওয়ামীলীগ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এবছরও দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে আওয়ামীলীগ।
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























