ঢাকা, সোমবার   ২৫ মে ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আপডেট: ১২:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সন্ত্রাসীদের টার্গেট পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সাইন্সল্যাব মোড়ে বোমা বিস্ফোরণটি সন্ত্রাসীরা পুলিশকে টার্গেট করে ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, এ বিস্ফোরণ কোনো সন্ত্রাসী মহল ঘটিয়েছে। এখনো পর্যন্ত পারিপার্শ্বিক অবস্থান ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে প্রতীয়মান পুলিশকেই টার্গেট করেছে চক্রটি।

সাইন্সল্যাব মোড়ে ঘটে যাওয়া বোমা বিস্ফোরণ সম্পর্কে রোববার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গতকাল রাতে সোয়া ৯টার দিকে সাইন্সল্যাব মোড়ে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থল তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করেছি। পরবর্তী সময়ে আমাদের ইন্সপেক্টর জেনারেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ আলামত জব্দ করেছি। সাক্ষ্যপ্রমাণ জব্দের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, ওই এলাকার আশপাশে যে সমস্ত সিসি ক্যামেরা ফুটেজ রয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করেছি। এর বাইরেও প্রযুক্তির আরো যে সমস্ত প্রয়োজনীয় আনুসাঙ্গিক বিষয় রয়েছে সেগুলোও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। চূড়ান্তভাবে এই ঘটনা সংক্রান্তে এখনই মতামত দেয়া যাবে না। বিস্তারিত তদন্ত শেষে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে জানানো হবে। কারণ এখনো তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত বিশ্লেষণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে- বিস্ফোরকটি একটি আইইডি। কোনো সন্ত্রাসী মহল এটি ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, তিন মাস আগে গুলিস্তান ট্রাফিক বক্সে এ ধরনের একটি বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে আমাদের পুলিশ সদস্য আহত হয়। এরপর মালিবাগ পুলিশের গাড়িতে যে বোমা পেতে রাখা হলো সেখানেও টার্গেট ছিল পুলিশ। বেশ কয়েকদিন আগে পল্টন ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের কাছে কার্টুনে বোমা রাখা হয়েছিল। এ সব ঘটনা থেকে মনে হয়েছে- টার্গেট পুলিশ হতে পারে।

‘গতকালের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কারণ যখন ট্রাফিক সিগন্যালটি বন্ধ হয়ে যায় এএসআই শাহবুদ্দিন যানজট ক্লিয়ার করার চেষ্টার সময় রাস্তাটি ফাঁকা ছিল। তখন শুধু ট্রাফিক পুলিশের সদস্য ও প্রটেকশন বিভাগের এএসআই শাহবুদ্দিন ওখানে ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিস্ফোরণটি ঘটে।’

মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আরো তদন্ত করে বলতে পারব। এটি কি রিমোট কন্ট্রোল ছিল, টাইমার ছিল, নাকি বোমাটি ছুঁড়ে মারা হয়েছিল? আমাদেরকে আরেকটু সময় দিতে হবে।

অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৫ সালের শেষের দিকে ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজার হত্যাকাণ্ড ও ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে নারকীয় হত্যাকাণ্ড হয়েছে। এর পর আমরা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অবলম্বন করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে এই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এরইমধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে মোটাদাগে তাদের নেটওয়ার্ককে অনেকটা দুর্বল করে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। সেই কারণে পুলিশের ওপর ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক।

‘এর বাইরেও আমাদের দেশে রাজনীতির নামে বিগত বছরগুলোতে ২০১৫, ১৬ ও ১৭ সালে অগ্নি ও বোমা সন্ত্রাসের মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দেশের মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা করেছি। নিজেরা জীবন বিসর্জন দিয়ে, আত্মত্যাগ করে রাষ্ট্রের সম্পদ ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এসব কারণে কুচক্রী ও দুষ্কৃতিকারী মহল শুরু থেকে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ। এই দুরভিসন্ধি বা চক্রান্ত বিস্ফোরণের পেছনে জড়িত আছে কিনা সেই বিষয়টিও তদন্ত হচ্ছে। এরইমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও থানা পুলিশের চৌকষ দল সার্বিকভাবে বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে।

এর আগে এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে- এসবের তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার বলেন, তদন্তের যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ এবং অভিজ্ঞ তদন্তকারী কর্মকর্তারা নানাভাবে বিষয়গুলো তদন্ত ও অনুসন্ধান করছে। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা যাবে না। তবে আমাদের বলার মতো সাফল্য রয়েছে।

গতকালের ঘটনাসহ সবগুলো ঘটনার দায় একটি জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করার বিষয়ে জানতে চাইলে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক সমস্যা, এটা শুধু বাংলাদেশের না। আমরা দেখেছি- ছোটখাটো ঘটনা বিশ্বব্যাপী হলে কিছু কিছু সাইট থেকে দায়ভার স্বীকার করা হয়। এটি কতটা সত্য ও নির্ভরযোগ্য, আদৌ যোগাযোগ আছে, নাকি এটি অভ্যন্তরীণ কোনো প্রচারণা বা কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ সেটি তদন্ত শেষে বলা যাবে। এসব বিষয় দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সমন্বয় করে জানার জন্য চেষ্টা করছি; যারা প্রত্যেকটি ঘটনায় তাদের কৃত দাবি করে আসছে এর সত্যতা কতটুকু। এসব দেখতে হলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষয়ে যারা দেশের বাইরে বিশেষজ্ঞ তাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। আইনিউজ/এসবি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়