ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৫০, ১৮ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২২:৪৭, ১৮ এপ্রিল ২০২১

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ

দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, দেশে ১৮ দিনে তেরো শতাধিক মৃত্যু

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশ। লকডাউনের কারণে শনাক্তের সংখ্যা  কিছুটা কমলেও টানা তিনদিন শতাধিক মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশে মাত্র ১৮ দিনেই ভাইরাসটির সংক্রমণে লাশ হয়েছেন তেরো শতাধিক মানুষ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন মারা গেছেন। যার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১০২ জন। যা দেশের ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যু বাড়ছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে মারা যাচ্ছেন রোগীরা।

তাদের পর্যালোচনা থেকে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির পাঁচ দিনের মধ্যে ৫২ শতাংশ করোনা রোগীর মৃত্যু হচ্ছে। এর মধ্যে ২৬ শতাংশ রোগী উপসর্গ শুরুর পাঁচ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভর্তি হয়েছিল। ১২ শতাংশ ভর্তি হয় উপসর্গ শুরু ১১ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে।

শুধু তাই নয় সাম্প্রতিককালে পুরুষের তুলনায় বেশি মারা যাচ্ছেন নারীরা। গত বছরের জুলাই মাসে যখন করোনা সংশ্লিষ্ট মৃত্যুহার সর্বোচ্চ ছিল সে সময়ে নারী-পুরুষের মৃত্যুর (২২৬/৯৮২) অনুপাত ছিল ১ঃ৩ঃ৫। কিন্তু এ বছরের এপ্রিলে দেখা গেছে নারী-পুরুষের মৃত্যুর (২৬৩/৬১৪) অনুপাত ১ঃ২ঃ২৩। অর্থাৎ গত বছরের চাইতে নারীরা এ বছর বেশি মারা যাচ্ছেন।

দেশে করোনায় মৃত্যু বাড়তে থাকায় চাপ পড়েছে কবরস্থানে। প্রতিদিন সকাল থেকেই গোরস্থানে থাকে লাশের মিছিল। এমন পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে উঠছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। এমনকি আগে থেকেই খুঁড়ে রাখা হচ্ছে কবর।

করোনার সংক্রমণে দেশব্যাপী চলছে আটদিনের লকডাউন। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সামনে দেশের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর বিপদ।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ইতোমধ্যে কবরস্থান এবং শ্মশানে দেখা গিয়েছে সংকট। মর্গেও মরদেহ রাখার জায়গা হচ্ছে না বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে অঞ্চলভিত্তিক দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু বেড়েছে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়। যার হার ৪৭ শতাংশ। ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলে মৃতের সংখ্যা কমে আসছে।

২০২০ সালের ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনায় প্রথম মৃত্যু হয়েছিল। সেই বছরের ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। অর্থাৎ তিন মাসে হাজারের কোটায় পৌঁছায় করোনায় মৃত্যু। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশে মাত্র ১৫ দিনেই হাজার ছাড়ায় মৃতের সংখ্যা।

দেশের সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে আরও ১০২ জন মারা গেছেন। এ সময় শনাক্ত করা হয়েছে আরও ৩ হাজার ৬৯৮ জনকে। একদিনে সুস্থ হয়েছেন আরও ৬ হাজার ১২১ জন।

রোববার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে মোট শনাক্তকারী রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ জনে।  এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ৩৮৫ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়