ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৯ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ২৯ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ১৭:০৩, ২৯ এপ্রিল ২০২১

সব কওমী জঙ্গি নয়, তবে সব জঙ্গি কওমী: ইসলামী ফ্রন্ট

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দরা বলেছেন, সব কওমী জঙ্গি নয়, তবে সব জঙ্গি কওমী। তাই কওমী জঙ্গিদের আর রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে বিচার করতে হবে। একইসাথে, কওমী-হেফাজতি জঙ্গিদের মদদদাতা যে দলেরই নেতাকর্মী বা সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা হোক না কেন, সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ইসলামের নামে নৈরাজ্যের প্রতিবাদ ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক-ধর্মীয়ক্ষেত্রে চলমান অস্থিরতা নিরসনকল্পে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামী ফ্রন্ট তাদের ৭ দফা দাবি জানায়।

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে দলের মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ স উ ম আবদুস সামাদ।

কওমি মাদ্রাসার বিষয়ে নেতৃবৃন্দরা এসময় বলেন, দেশের এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব মাদ্রাসা সুচারুরূপে পরিচালনার জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা নীতিমালা তৈরি করা হলেও কওমি মাদ্রাসা গুলো সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালার আলোকে পরিচালিত হচ্ছে না। তারা সরকারি স্বীকৃতি ভোগ করে সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে কাজ করছে। অতিমাত্রায় সরকারি সুবিধা গ্রহণের ফলে তারা উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণে উৎসাহী হয়েছে। অনতিবিলম্বে তাদেরকে আলিয়া নেসাবের মত একই সিলেবাসভুক্ত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত করতে হবে।

একমুখী মাদ্রাসা শিক্ষা পিছিয়ে পড়া কওমী শিক্ষার্থীদের সাধারণ স্রোতে মিলিত করবে। শিক্ষারও মানোন্নয়ন হবে। সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড হতে তাদের নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসাগুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধের নামে যে ঘোষণা এসেছে তা অনেকটা জাতির সাথে প্রতারণার শামিল। যতদিন এ ধারার মাদ্রাসাগুলো মূল স্রোতে ফিরে আসবে না, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের  মধ্যে আসবে না ততদিন তারা একের পর এক ভিন্ন নামে, ভিন্ন কর্মসূচিকে সামনে এনে  নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাবে। তাই কওমী মাদ্রাসাকে অডিটের মধ্যে এনে অবিলম্বে সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে দু’ধারায় বিভক্ত করার ফলে অদূর ভবিষ্যতে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকাবোধ করছে ইসলামী ফ্রন্ট। উত্তেজনাকর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতে আলিয়া-কওমি উভয় ধারাকে অভিন্ন শিক্ষানীতির আলোকে পরিচালনার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, করোনাকালেও শিশু-নারী নির্যাতনের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি রিসোর্ট কাণ্ডের পর গ্রেফতার হওয়া মামুনুলের নারী নিগ্রহ-অনাচার এবং বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েমের বিরুদ্ধে নারী আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ ওঠেছে। নিপীড়ক, ধর্ষক, হত্যাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্দ্ধে ওঠে দ্রুত আইনে সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করলে দেশে এ ধরনের অপরাধের মাত্রা অনেকাংশ কমে যেতে পারে।

এসময় নেতৃবৃন্দ-সাময়িক চুক্তিবদ্ধ বিয়ে হারাম ঘোষণা দিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত বাংলাদেশের শীর্ষ ৫৫১ জন আলেম প্রেরিত বিবৃতির সাথে একাত্মতাও পোষণ করেন।

হেফাজতকে নিষিদ্ধের দাবি

বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট বলেছে, নৈতিক পদস্থলন ও জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডে যুক্ত হেফাজতকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে। তাদের কমিটি বিলুপ্তি বা নতুন কমিটি গঠন করা ইতোপূর্বে সংগঠিত জঙ্গিবাদি অপরাধকে মার্জনা করে না।

ইসলামী ফ্রন্ট আরও বলে, সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিংয়ে হেফাজতের রাজনৈতিক সংগঠন খেলাফত মজলিসের সাথে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা ওঠে এসেছে। এ তথ্য যদি সত্য হয় তবে খেলাফত মজলিসের নিবন্ধন বাতিলসহ জঙ্গি সম্পৃক্ততার কারণে এ দলটিকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। বিস্তারিত...

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়