ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৮, ৮ মে ২০২১
আপডেট: ১৪:০৪, ৮ মে ২০২১

আজ কবিগুরুর জন্মদিন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আজ পঁচিশে বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মদিন। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে (৭ মে, ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দ) কলকাতায় জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবি বলে প্রধান পরিচিতি পেলেও রবীন্দ্রনাথ একাধারে ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিকও ছিলেন। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। ভূষিত করা হয় গুরুদেব, কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায়।

জমিদার বংশে জন্ম নিয়েও তিনি জমিদারদের বিরুদ্ধে কলম ধরার মতো সাহস দেখিয়েছিলেন। যেটা বিশ্বের যে কোনো সাহিত্য ইতিহাসে বিরল ঘটনা। জমিদার বা মহাজনদের সুদ প্রথার বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, ‘যা ছিল মোর বিঘে তিন ভাই, তার সবি গেছে ঋণে।’

তার সাহিত্য জীবনের এক সোনালি সময় কেটেছে সিরাজগঞ্জের শাজাদপুর ও শিলাইদহে। বাংলাদেশে অবস্থান করার কারণে জীবনের গতি-প্রকৃতি ও বাস্তব জীবনকে যেভাবে উপলব্ধি করেছেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে, তাই তার লেখনীর মাধ্যমে ফুটে উঠেছে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়।

রবীন্দ্রনাথের রচনাসম্ভার বিপুল, বৈচিত্র্যময়। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি। বিস্ময়কর সৃজনী প্রতিভা দিয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে। তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক, সংগীত, শিশুতোষ রচনা বাংলা সাহিত্যের অমর সংযোজন। স্বকীয় নান্দনিক ভাবনায় তিনি সমৃদ্ধ করেছেন চিত্রকলাকেও। তার লেখা গান আমাদের জাতীয় সংগীত। বাঙালির মহান মুক্তিসংগ্রামে রবীন্দ্রনাথের গান জুগিয়েছে প্রেরণা।

সাহিত্যের এমন কোন শাখা নেই যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিচরণ নেই। নিজে কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারতেন না, অথচ বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই গান গেয়ে মাতিয়েছেন পুরো বিশ্ব। শুধু গান কেন; ছোট গল্প, উপন্যাস, কাব্য, নাটক-সব ধরণের রচনাতেই তিনি পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। এমনকি জীবনের শেষ বয়সে তিনি এসে আঁকা শুরু করলেন ছবি, তাও পৃথিবীব্যাপী সমাদৃত হলো।

‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী তিনিই প্রথম এশীয় ও একমাত্র বাঙালি লেখক।

রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে কখনও বাংলা সাহিত্য কল্পনাও করা যায় না। রবীন্দ্রচর্চার প্রতি আরও বেশি বেশি মনোনিবেশের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। জন্মবার্ষিকীর এ দিনে তাই তার প্রতি রইলো গভীর শ্রদ্ধা।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়