ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

মোস্তফা মনজুর

প্রকাশিত: ২২:০৬, ১০ মে ২০২১
আপডেট: ২২:০৯, ১০ মে ২০২১

পবিত্র মাহে রমজান ও করণীয় আমল (পর্ব ১০)

আমরা অনেকেই ওযু করার কষ্ট স্বীকার করব বিধায় অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক আমল করতে পারিনা। এই রমজানে আমরা সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা শুরু করতে পারি। কতই না ভালো হবে, যদি আমরা আমদের রবের ডাকে ওযু অবস্থাতে সাড়া দিতে পারি।

আলহামদুলিল্লাহ, নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লী আলা রাসূলিহিল কারীম।

আন্যান্য কতিপয় কাজ

মাহে রমজানের পুণ্য হাসিলের কাজের তালিকার শেষ নেই। যে কোন নেক কাজ কিংবা আল্লাহর সন্তুশটির জন্য বৈধ কাজই বরকতময়। তালিক করে এর শেষ হবে না। বিগত পর্বগুলোতে আমি মাত্র গুটিকতেক কাজের কথা লিখেছি, তাও একেবারে সাধারণ মুসলিমদের জন্য।

যারা তাকওয়াবান, পরহেজগার তাঁদের নিকট এ তালিকা হাস্যকর মনে হতেই পারে। কারণ তাঁদের নিকট, এত কম আমলের কথা আবার লিখা লাগে নাকি। যাই হোক, এ পর্বে আমি সংক্ষিপ্তাকারে আরো কিছু কাজের কথা উল্লেখ করব ইনশা আল্লাহ।

ক. সদা সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা

আমরা অনেকেই ওযু করার কষ্ট স্বীকার করব বিধায় অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক আমল করতে পারিনা। এই রমজানে আমরা সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা শুরু করতে পারি। কতই না ভালো হবে, যদি আমরা আমদের রবের ডাকে ওযু অবস্থাতে সাড়া দিতে পারি।

খ. শিক্ষাদান

আমাদের ঘরের ছেলে মেয়ে, ভাতিজা ভাতিজি কিংবা ছোটদের এ মাসে আমরা কুরআন ও ইসলামী নানা মৌলিক বিষয় শিক্ষা দিতে পারি। এমনকি আমাদের পিতা-মাতা বা বড়রা যারা সহীহ শুদ্ধ করে কুরান পুরতে জানেন না, তাদেরও এ সুযোগে কুরআন শেখায় সাহয্য করতে পারি।

প্রিয় ভাই, কুরআন শিক্ষা ও শেখানোর মত উত্তম আমল আর কি হতে পারে? এতা তো সর্বোত্তম সাদকায়ে জারিয়া। যা চেইনের মত চলতেই থাকবে, হয়ত আমার মৃত্যুর পরও।

গ. জরুরি দুইটি সুন্নাহ -

১. মেসওয়াক করা

. তাহাজ্জুদ

ঘ. পারিবারিক কাজ

পারিবারিক কাজে সাহায্য করাও সাওয়াবের কাজ। তবে তা যেন হয় হাসিমুখে, রাসূলুল্লাহ (স) এর সুন্নাহ জেনে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

পরিবারে আমাদের ভুমিকা নানাবিধ। স্বামী বা স্ত্রীকে সাহায্য করা তো প্রিয় নবীরই (স) সুন্নাত। আর পিতা-মাতাকে সম্মান করা, সাহায্য করা, তাঁদের সাথে সময় কাটানো সবই মহাপুণ্যের আমল। পাশাপাশি ছোট বাচ্চাদের ভালোবাসা, তাদের সাথে উত্তম সময় কাটানোও আমাদের অবসরের আমল হতে পারে।

ইফতার-সাহরি তৈরি করা, গৃহস্থালী কাজে সাহায্য করা, স্ত্রী বা মায়ের কাজের ভার লাঘব করা ইত্যাদি ভাই মুমিনেরই আলামত। এতে নিঃসন্দেহে লজ্জার কিছু নেই। বরং এসব না করে, একজন রোযাদারকে কষ্ট দিয়ে নিজে নবাবের মত বসে খাওয়াই লজ্জাস্কর।

ঙ. ইতিকাফ ও লাইলাতুল ক্বাদর

রমজানের শেষ দশদিনের গুরুত্বপুর্ণ আমল হচ্ছে ইতিকাফ। জানিনা এবারের অবস্থায় কতজন কীভাবে ইতিকাফ করবেন। তবে কিছু কাজের মাধ্যমে আমরাও ইতিকাফের সাওয়াব পেতে পারি। যেমন মহিলাদের ইতিকাফ ঘরেই। সুতরাং এবারের লকডাউনে আমরা পুরুষরা যদি শেষ দশদিনের গৃহস্থালীর দায়িত্ব নেই, তাহলে আমাদের মা-বোনরা ইতিকাফ করতে পারেন। যা সাধারণত অন্য সময় হয়ে ওঠেনা। এতে তাঁদের ইতিকাফের সাওয়াবের ভাগীদার আমরাও হতে পারি। (পুরুষের ইতিকাফের ফাতওয়া মুফতীদের কাজ থেকে জেনে নেওয়াই ভালো)।

আর যারা ইতিকাফ করতে সক্ষম নই, তারাও যেন ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য ভুলে না যাই। তা হচ্ছে লাইলাতুল ক্বাদর ইবাদাতে কাটানো। আমরা শেষ দশদিন, ন্যূনতম বেজোড় রাতগুলো, ইবাদাতে কাটাতে চেষ্টা করব। পাঁচটি রাত না হয় নির্ঘুমই গেল, তাতে হাজার মাসের সাওয়াব। কত সহজে কত বিশাল সওদা! আল্লাহ রাব্বুল ইযযতের এত সহজ সওদাও যদি আমরা নিতে না পারি, জবাব দেওয়ার কিছু কি থাকবে?

চ. ঈদের রাতের আমল

ঈদের রাত বা আমাদের সমাজের চাঁন রাত খুশির নয়, বরং ইবাদাতের। অথচ আমরা যেন শয়তানের মুক্তিতে তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করি, নানা আমোদ-আহ্ললাদ আর আনন্দে মেতে উঠি। যেন একমাসের কষ্টের দিন শেষ হলো। অথচ সালাফগণ রমজানের বিদায়ে কেঁদে উঠতেন, নিআমত হারানোর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়তেন। ঈদের রাতে তাই আমাদের আমল করা উচিত, কেননা এ রাতের আমলকারীর অন্তর আল্লাহর প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে কখনোই মৃত হয় না।

আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর সন্তোষটি হাসিলের মত আমলের তাওফিক দিন। আমীন।

চলবে...

মোস্তফা মনজুর, সহকারি অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও

পিএইচডি গবেষক, নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটি, ইংল্যান্ড

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়