ঢাকা, সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬,   ভাদ্র ৮ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৫০, ১০ মে ২০২১
আপডেট: ০১:০৫, ১১ মে ২০২১

বিদেশে নেওয়ার অনুমতি মেলেনি, কীভাবে হবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা?

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রস্তুতি ছিল পরিবার ও দলের। তবে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় আপাতত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশে নেয়া যাচ্ছে না। সিসিইউতে থাকা বিএনপি-প্রধান দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসাটুকু যেন পান সে চেষ্টা চলছে। এছাড়া তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারেও হাল ছাড়ছে না দল ও পরিবার। নতুন পথ খুঁজছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে আইনি বাধা ও তার ভিত্তি নিয়ে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে দল সমর্থিত আইনজীবী ছাড়াও অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতারা কথা বলছেন। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন-এরকম নজিরও খুঁজছে দলটি।

সোমবার (১০ মে) বিবিসিকে দেওয়া এক প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন ঢাকায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা তারা করবেন। একইসঙ্গে বিদেশে নেয়ার জন্য আইনগত বা অন্য কোনো উপায় আছে কি না- তা খতিয়ে দেখে দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

‘আমরাতো জোর করে তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে পারবো না। এখানে সরকার না করে দিয়েছে। সুতরাং আমরা চেষ্টা করবো, এখানেই তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার জন্য। একই সময় অন্য কোনো অপশন আছে কি না- আইনগত বা অন্য কোনো উপায়, সেটাও আমরা দেখবো।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অন্যান্য অপশনগুলো আমরা ভেবে দেখবো এবং সেগুলো আমরা আমাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

এদিকে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি মানবিক এবং ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হতে পারে- সরকারের পক্ষ থেকে এমন ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল। এরপর খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দর আবেদনটি করেছিলেন।

খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিএনপি ও তার জোট নেতারা। তারা মনে করে খালেদা জিয়ার বিষয়টিকে নিয়ে সরকার রাজনীতি করছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করছি- সরকারের এখতিয়ারে থাকার পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আইনজীবীদের অনেকে বলেছেন, অনুমতির জন্য বিএনপি আদালতে যেতে পারে এবং সাজার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশে কারোর দণ্ড স্থগিত, পুরো বা আংশিক মওকুফ করে দিয়ে মুক্তি দিতে পারে৷ শর্তসাপেক্ষে দিতে পারে আবার শর্তহীনভাবেও দিতে পারে৷ ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যেহেতু দণ্ডিত তাই সরকার এই আইনেই তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে৷ তাকে দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্ত তুলে শর্তহীন করার ক্ষমতা এই আইনেই সরকারকে দেয়া হয়েছে।’

এর আগে গতকাল রোববার (৯ মে) খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি সরকার না দেওয়ায় বিএনপি হতাশ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। 

তিনি বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা নিঃসন্দেহে হতাশ। তার (খালেদা জিয়া) এই চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। ওয়ান-ইলেভেনের ধারাবাহিকতায় সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়, এই জন্যই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্যই এ সিদ্ধান্ত।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনের মধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণ দণ্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য তাদের মানবতা কাজ করেনি, শিষ্টাচার কাজ করেনি। রাজনীতির শিকার হয়েছেন তিনি।’ বিস্তারিত...

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার কাছে বেটার (ভালো) মনে হলো। অক্সিজেন ছাড়াই শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন তিনি; সাইন অব ইমপ্রুভমেন্ট (উন্নতির লক্ষণ)।’

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়